সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী করার নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
সশস্ত্র বাহিনীকে জনমুখী করার নির্দেশ

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও জনমুখী ও কার্যকর শক্তিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম বলেছেন, জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও সুসংহত হয়।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনটি ছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের কার্যক্রম, কর্মপদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ডিসিদের বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে বাহিনীর সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেশি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, “টোটাল পিপলস ওয়ার্ক” ধারণা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দর্শনের আলোকে কীভাবে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ড. শামছুল ইসলাম বলেন, সশস্ত্র বাহিনীতে দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগ এবং তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনী ও প্রশাসনিক কাজে সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের যৌথ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সমন্বয় দেশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জানান, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্য রয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই। বরং পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে তারা একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো সংকট বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত এবং জনগণের পাশে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কঠোর প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা দেশ ও জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। এই পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেম তাদের আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

ডিসি সম্মেলনে উপস্থিত জেলা প্রশাসকরাও সেনাবাহিনীর সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। মাঠ প্রশাসনের কাজে সেনাবাহিনীর সহায়তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে এবং এটি একটি কার্যকর সমন্বয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এই ধরনের সমন্বয় জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি একটি জনমুখী রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলার দিকেও অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এই পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং জনগণমুখী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

সব মিলিয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের এই অধিবেশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের যৌথ ভূমিকা আরও সুসংগঠিত করার বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত