হাম টিকাদানে ৮৯ শতাংশ সাফল্য, জানান ডা. জাহেদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে চলমান হাম প্রতিরোধ টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় এক কোটি ৬১ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৯ শতাংশ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, টিকাদান কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে হাম রোগের কারণে এখন পর্যন্ত ৩০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, “একজন শিশুর মৃত্যুও কাম্য নয়। এই পরিস্থিতির জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি জানান, সরকার দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে এবং ইতোমধ্যে বড় একটি অংশ শিশু এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এখন পর্যন্ত এক কোটি ৬১ লাখ শিশুকে হাম টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ। বাকি শিশুদেরও খুব শিগগিরই টিকার আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, হামের টিকা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সংকট হবে না। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে টিকাদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে এবং কোনো শিশু এই সুরক্ষা থেকে বাদ না পড়ে।

শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারও চায়নি যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি দেশের অন্যান্য জনস্বাস্থ্য ইস্যু নিয়েও কথা বলেন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে এবং এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

ডেঙ্গু ছাড়াও অন্যান্য মৌসুমি রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল ব্যবস্থাপনা উন্নত করার কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ঘটনায় আটক সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার অন্যায়ভাবে কেউ যেন কারাগারে না থাকে, সে বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে।

এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, এ বছরের শেষ দিক থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদ বাতিলের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রেখেই নির্বাচন ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব রয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মোট ৩১১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামজনিত মৃত্যু ৫২ জন এবং সন্দেহভাজন মৃত্যু ২৫৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায়ও ১৭ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সরকার বলছে, টিকাদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত টিম কাজ করছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিলেও হাম পরিস্থিতি এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত