প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল’-এর বাংলাদেশ শাখার জাতীয় পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে দেশের ইভেন্ট ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠান ইমেকার্স বাংলাদেশ। এই দায়িত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এখন থেকে বাংলাদেশে প্রতিযোগিতাটির অফিসিয়াল কার্যক্রম, প্রতিযোগী নির্বাচন, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।
‘মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল অর্গানাইজেশন’-এর অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ইমেকার্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈম আশরাফকে বাংলাদেশ শাখার জাতীয় পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল’ বিশ্বব্যাপী অন্যতম পুরোনো এবং মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান তরুণীদের একত্রিত করে তাদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বার্তা তুলে ধরার একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। এবারের আয়োজন হবে এর ৫৩তম আসর, যেখানে বিশ্বের নানা দেশ থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও একজন প্রতিনিধিত্ব করবেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।
ইমেকার্স বাংলাদেশ এর আগে দেশের ইভেন্ট ও এন্টারটেইনমেন্ট খাতে বেশ কয়েকটি বড় ও আলোচিত আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং এবং নেহা কাক্করের ঢাকা কনসার্ট আয়োজন, নেপালে অনুষ্ঠিত ‘নেপাল–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কনসার্ট’ এবং ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ‘কনসার্ট ফর নেপাল’ আয়োজন। এসব অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানের ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ইমেকার্স বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈম আশরাফ বলেন, এই দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাংলাদেশে একটি রিয়েলিটি শো আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে ‘মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশ’ নির্বাচন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে প্রতিভাবান তরুণীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং তরুণীদের আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার একটি আন্তর্জাতিক সুযোগ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মঞ্চে আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের ইভেন্ট ও মিডিয়া শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে, তবে এই ধরনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম দেশীয় প্রতিযোগীদের জন্য আরও সুসংগঠিত ও পেশাদার সুযোগ তৈরি করবে।
সব মিলিয়ে ‘মিস ইন্টারকন্টিনেন্টাল বাংলাদেশ’ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া ইমেকার্স বাংলাদেশের জন্য যেমন একটি বড় অর্জন, তেমনি দেশের ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও এটি একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।