সরকারি হাসপাতালে ঘরে বসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবা শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
ঘরে বসেই পাওয়া যাবে সরকারি হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি এখন অনেকটাই কমে আসতে চলেছে। স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং আধুনিক করতে দেশে চালু হচ্ছে ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম, যার মাধ্যমে রোগীরা ঘরে বসেই নির্দিষ্ট সময়ের সিরিয়াল ও আউটডোর টিকিট নিতে পারবেন।

এই ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের ই-ফেক্টিভ গভর্ন্যান্স প্রকল্প যৌথভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ৪ মে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কনফারেন্স রুমে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে চারটি সরকারি হাসপাতালে সফলভাবে পাইলট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখন ধাপে ধাপে দেশব্যাপী এই ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এই সিস্টেম চালু হলে রোগীরা আর হাসপাতালে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে না। বরং মোবাইল বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা ঘরে বসেই পছন্দের সময় অনুযায়ী চিকিৎসকের সিরিয়াল বুক করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, অন্যদিকে হাসপাতালের ভিড়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। বিশেষ করে আউটডোর সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।

কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমিম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে রোগীরা যেমন সুবিধা পাবেন, তেমনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম, এমআইএসের পরিচালক ডা. আবু আহম্মদ আল মামুন, প্রকল্পের টিম লিডার আর্সেন স্টেপানিয়ান এবং সাবেক পরিচালক ও প্রকল্প কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির কারিগরি সহায়তায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাকে এগিয়ে নিচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু হলে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের রোগীরা সমানভাবে সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে যারা দূর-দূরান্ত থেকে হাসপাতালে আসেন, তাদের সময় ও খরচ দুটোই কমবে।

তারা আরও বলেন, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে শুধু অ্যাপয়েন্টমেন্ট নয়, রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, রিপোর্ট এবং ফলোআপ ব্যবস্থাও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে হাসপাতালের চাপ কমাতে এবং সেবার মান উন্নত করতে এ ধরনের ডিজিটাল সমাধান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, সরকারি হাসপাতালে ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রোগীদের ভোগান্তি কমিয়ে সেবার গুণগত মান বাড়াবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত