শাপলা চত্বর মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি ও প্রসিকিউশনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি প্রকাশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
শাপলা চত্বরে সমাবেশ হেফাজতের ৫৮ জন নিহত

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০১৩ সালের আলোচিত শাপলা চত্বর ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চলমান তদন্তে নতুন তথ্য ও অভিযোগ সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পেছনে পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ মামলার প্রধান আসামি করার প্রক্রিয়া বিবেচনায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বর কেন্দ্রিক সহিংসতায় মোট ৫৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার মতিঝিল এলাকায় ঘটনাস্থলে ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজনের মৃত্যু ঘটেছে বলে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার তদন্ত এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষায়, তদন্ত কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ৭ জুনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে একাধিক স্তরের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৩০ জনের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, “যে কোনো মামলার ক্ষেত্রে আমরা তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য পর্যায়ক্রমে যাচাই করি। এখনই কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা যাচ্ছে না। তবে যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশকে ঘিরে সেদিন দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান এবং সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে, যা দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয় হয়ে আছে।

তদন্ত প্রসঙ্গে প্রসিকিউশন জানায়, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক পুনঃতদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শী, নথিপত্র, প্রশাসনিক রেকর্ডসহ একাধিক উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়েও নতুন করে যাচাই-বাছাই চলছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের নামও তদন্তের আওতায় আসতে পারে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে সব নাম এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও পরিকল্পনা বা নির্দেশনার মাধ্যমে কেউ জড়িত থাকতে পারেন, এমন দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষকরা। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অতীতেও নানা ধরনের বিতর্ক ছিল। নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লে এসব বিষয় আরও পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের বড় পরিসরের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপরই স্পষ্ট হবে কারা কোন পর্যায়ে দায়ী বা সম্পৃক্ত ছিলেন।

শাপলা চত্বর ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় পর নতুন করে তদন্তের অগ্রগতি সামনে আসায় বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় ফিরে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত