ইরানের দাবি হরমুজে মার্কিন হামলায় নিহত ৫

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ৯১ বার
হরমুজ প্রণালী মার্কিন হামলা

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। পণ্যবাহী নৌকার ওপর মার্কিন সামরিক হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৫ মে) দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই তথ্য জানায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পৃথক দাবি ও পাল্টা বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানের উপকূলীয় অঞ্চল খাসাব থেকে ইরানের দিকে যাত্রা করা দুটি ছোট বেসামরিক পণ্যবাহী নৌকায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। হামলার ফলে নৌকাগুলোতে থাকা পাঁচজন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই নৌকাগুলো কোনো সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিল না, বরং সাধারণ পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ছয়টি ছোট স্পিডবোটে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করে, এই নৌকাগুলোকে “হুমকিস্বরূপ” মনে হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলায় মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার দিয়ে ইরানি নৌকাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও দাবি করেন, এই নৌকাগুলো হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছিল।

তবে ইরানি পক্ষ বলছে, এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক জলসীমার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। তাদের মতে, বেসামরিক নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বজুড়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিচালিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সংঘাত বা সামরিক উত্তেজনা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান বলছে এটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নৌচলাচলের ওপর হুমকি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সংঘর্ষ পরিস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকরভাবে কাজ না করে। বিশেষ করে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হরমুজ অঞ্চলে যে কোনো সামরিক সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে মূল্য অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে ইরান এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করবে এবং প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের এই বেসামরিক হতাহতের দাবি নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে সামরিক সূত্রগুলো বলছে, তাদের অভিযান ছিল “নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত”।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে আস্থাহীনতা এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়তে থাকায় সংঘাতের ঝুঁকি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণে একমাত্র পথ হলো কূটনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে, যার প্রভাব গোটা বিশ্বকে বহন করতে হবে।

সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী এখন আবারও বৈশ্বিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বেসামরিক হতাহতের এই দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আদৌ কতটা সম্ভব, আর সংঘাতের এই চক্র কবে শেষ হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com