রাজশাহীর বাগমারায় নদীতে পড়ে যুবকের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
রাজশাহীর বাগমারায় নদীতে পড়ে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার পর এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিন ঘণ্টার দীর্ঘ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

নিহত যুবকের নাম সাজেদুর রহমান (৩২)। তিনি উপজেলার সূর্যপাড়া গ্রামের মৃত আমির মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে তিনি বাড়ির কাছাকাছি ফকিন্নি নদীতে মাছ ধরতে যান। প্রতিদিনের মতোই নৌকায় করে নদীতে নামেন তিনি। তবে মাছ ধরার এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত তিনি নৌকা থেকে নদীতে পড়ে যান এবং দ্রুত পানির স্রোতে তলিয়ে যান।

ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নদীর বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হলে বাগমারা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজশাহী সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দলও ঘটনাস্থলে আসে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ধারাবাহিক অনুসন্ধান চালানোর পর অবশেষে নদী থেকে সাজেদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ফকিন্নি নদীতে মাছ ধরা এলাকার অনেক মানুষের জীবিকা ও বিনোদনের অংশ হলেও পানির গভীরতা ও স্রোতের কারণে এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে নৌকা চালানোর সময় অসাবধানতা বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঘটনার পর নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় প্রতিবেশীরাও শোকাহত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ান। পুরো সূর্যপাড়া গ্রামে নেমে আসে গভীর শোকের আবহ।

বাগমারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল এসে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানান, পানির গভীরতা এবং স্রোতের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং নদীতে মাছ ধরার সময় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়দের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

এদিকে এলাকাবাসী মনে করছেন, নদী ও খাল-বিলে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নৌকা ব্যবহার করার সময় লাইফ জ্যাকেট বা প্রাথমিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তারা মত দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় ছোট ছোট নদী ও খালে মাছ ধরার সময় অসাবধানতা প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়। পানির স্রোত, গভীরতা এবং স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এসব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সাজেদুর রহমানের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সহায়। তার মৃত্যুতে পরিবার আর্থিক ও মানসিকভাবে বড় সংকটে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা সচেতনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নদী ও জলাশয়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং নজরদারি বাড়ানো হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যায়।

রাজশাহীর এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিলো গ্রামীণ জীবনের দৈনন্দিন ঝুঁকিগুলো কতটা ভয়াবহ হতে পারে। একটি সাধারণ মাছ ধরার দিন যে এমন শোকাবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা কেউই আগে থেকে কল্পনা করতে পারেননি। এখন পুরো এলাকায় একটাই প্রশ্ন—আর কত প্রাণ গেলে এমন দুর্ঘটনা থামবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত