কুবিতে আবাসন সংকট: ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
কুবিতে আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আবাসন সংকট এখন শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি আবাসিক সুবিধা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় একটি অংশ, প্রায় ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮৪ জন। কিন্তু তাদের জন্য আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২৩৯টি। এই সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১৯ দশমিক ১১ শতাংশের সমান। যদিও অতিরিক্ত চাপে বিভিন্ন হলে বর্তমানে ১ হাজার ৫৫৪ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন, যা কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।

হলভিত্তিক চিত্রও একই সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরে। কাজী নজরুল ইসলাম হলে নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকছে, বিজয় ২৪ হলে পরিস্থিতি আরও চাপা। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল এবং সুনীতি-শান্তি হলে একই ধরনের ডাবলিং ও অতিরিক্ত চাপের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এক রুমে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকায় পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫৫৪ জন হলে থাকতে পারলেও প্রায় ৪ হাজার ৯৩০ জন শিক্ষার্থী কোনো ধরনের আবাসন সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে তাদের বড় অংশকে কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা, যাতায়াত ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।

শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে গিয়ে পরিবহন সংকট ও সময় ব্যবস্থাপনার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আবার যারা হলে থাকছেন, তারাও জায়গার সংকটে স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রে একটি কক্ষে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী থাকতে হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত জায়গা ও মানসিক স্বস্তিকে প্রভাবিত করছে।

বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সংকট আরও বেশি উদ্বেগজনক। নিরাপত্তার কারণে অনেকেই হলে থাকতে চাইলেও পর্যাপ্ত আসন না থাকায় তাদের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে পরিবারগুলোও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে। হলের ভেতরে মিল সিস্টেম থাকায় খাবারের দিক থেকে কিছু সুবিধা মিললেও সেটিও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গণরুম ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। এখনো ডাবলিং সিস্টেমে থাকতে হচ্ছে অনেককে। এতে ব্যক্তিগত পড়াশোনার সময় ও মানসিক প্রশান্তি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ২০০ একরের নতুন ক্যাম্পাসে চারটি ১০ তলা আবাসিক হল নির্মাণের কাজ চলছে। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে আরও ৪ হাজার ২০৬টি নতুন আসন যুক্ত হবে, যা বর্তমান সংকট অনেকটাই কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় নিয়ে জটিলতা থাকায় কাজের গতি ধীর হয়ে গেছে।

প্রায় ২৪১ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। অর্থ সংকট সমাধান না হলে নতুন হলগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা কঠিন হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হল প্রভোস্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের রাখা হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত আবাসিক হল ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য জানিয়েছেন, নতুন ক্যাম্পাসের কাজ শেষ হলে আবাসন সংকট অনেকটাই দূর হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে—নতুন অবকাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা এই দীর্ঘ ভোগান্তি থেকে কতদিনে মুক্তি পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত