জামায়াত নেত্রীদের সঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধির বৈঠক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
জামায়াতের মহিলা নেত্রীদের সঙ্গে পাকিস্তানি নেত্রীর মতবিনিময়

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের নেত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের করাচি জোনের দায়িত্বশীলা ডা. সীমা মালিক। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের নারী সংগঠন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবেই এই সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা পাকিস্তান থেকে আগত প্রতিনিধি ডা. সীমা মালিককে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি অতীতে পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের ভূমিকা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে নারীরা সামাজিক, সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নারী সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ভবিষ্যতে নতুন ধরনের কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজে নারী নেতৃত্বের সামনে এখনো নানা ধরনের সামাজিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের মতবিনিময় ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি ডা. সীমা মালিক তার বক্তব্যে বাংলাদেশের নারী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভিন্ন। সেখানে দীর্ঘদিনের সামন্তবাদী রাজনৈতিক কাঠামো এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষ করে নারীদের জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিসরে কাজ করা এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জের বিষয়।

ডা. সীমা মালিক বলেন, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে যে সাংগঠনিক তৎপরতা এবং সামাজিক যোগাযোগের বিস্তার দেখা যাচ্ছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে নারী সংগঠনগুলো যেভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, তা পাকিস্তানের নারী সংগঠনগুলোর জন্যও শিক্ষণীয় হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই সফরের অভিজ্ঞতা তিনি নিজ দেশের নারী আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। দুই দেশের নারী নেত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অতীত থেকেই আদর্শিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারী সংগঠন ও নারী নেতৃত্বকে সামনে রেখে এ ধরনের মতবিনিময় সভা নতুন মাত্রা যোগ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোও নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যক্রমে নারী অংশগ্রহণকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী নেতৃত্ব এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক ও সামাজিক সংগঠনও এখন নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা আগের তুলনায় অনেক বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

এদিকে, পাকিস্তানেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো এখনো অনেক ক্ষেত্রে রক্ষণশীল এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক হওয়ায় নারী নেতৃত্বের বিকাশ সেখানে তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় আইটি বিভাগীয় সেক্রেটারি মাহবুবা জাহান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিভাগের রাজনৈতিকবিষয়ক সেক্রেটারি ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, বিদেশ বিভাগীয় সেক্রেটারি খোন্দকার আয়েশা খাতুন, সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম ও সাঈদা রুম্মান, মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি সাবিকুন্নাহার মুন্নি, প্রচার-মিডিয়া ও সাহিত্য সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, সমাজকল্যাণ বিভাগীয় সেক্রেটারি খন্দোকার আয়শা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সালমা সুলতানা, রোজিনা বেগম, সুফিয়া জামান, আমেনা বেগম, উম্মে খালেদা জাহান, জান্নাতুল কারীমা সুইট এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া প্রমুখ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৈঠক শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না; বরং দুই দেশের নারী সংগঠনগুলোর ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, সাংগঠনিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ঘিরে এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত