সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

২৬ নয়, ২৭ সদস্যের দল ঘোষণা পর্তুগালের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ১৩ বার
২৬ নয়, ২৭ সদস্যের দল ঘোষণা পর্তুগালের

প্রকাশ: ২০ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণায় এবার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে পর্তুগাল। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী যেখানে ২৬ জন খেলোয়াড়ের দল ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল ঘোষণা করেছে ২৭ সদস্যের স্কোয়াড। এই অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড় রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।

পর্তুগাল দলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তার ঘোষিত দলে অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছে গোলরক্ষক রিকার্দো ভেলহোকে। তবে তিনি মূল ২৬ সদস্যের তালিকার বাইরে থাকলেও পুরো স্কোয়াডের সঙ্গে থাকবেন এবং প্রয়োজনে বিকল্প হিসেবে কাজ করবেন।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা–এর নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় রাখা যায়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বা বিকল্প খেলোয়াড় দলে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, যারা মূল তালিকায় না থেকেও দলের সঙ্গে অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে অংশ নেন।

পর্তুগালের ক্ষেত্রে রিকার্দো ভেলহোকে মূলত অতিরিক্ত গোলরক্ষক হিসেবে রাখা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, দলে থাকা তিনজন গোলরক্ষকের কেউ যদি টুর্নামেন্টের সময় চোটে পড়েন বা অনুপলব্ধ হয়ে যান, তখনই ভেলহোকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। অন্যথায় তিনি পুরো টুর্নামেন্টে দলের সঙ্গে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাবেন না।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ফুটবলবিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে—একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় রাখা কি কৌশলগত সুবিধা, নাকি শুধু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা? কোচ মার্তিনেজ অবশ্য বিষয়টিকে সম্পূর্ণ কৌশলগত পরিকল্পনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ ও কঠিন টুর্নামেন্টে প্রতিটি পজিশনে গভীরতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মার্তিনেজ বলেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে চাপ, ভ্রমণ, আবহাওয়া ও সময়ের পার্থক্য বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত আসরে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণ খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্কোয়াডে অতিরিক্ত প্রস্তুত খেলোয়াড় রাখা ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্তুগালের এই সিদ্ধান্ত মূলত আধুনিক ফুটবলের নতুন কৌশলগত চিন্তার প্রতিফলন। যেখানে শুধু প্রথম একাদশ বা ২৬ সদস্যের ওপর নির্ভর না করে পুরো দলকে একটি বৃহৎ ইউনিট হিসেবে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে গোলরক্ষকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে বিকল্প প্রস্তুত রাখা বড় টুর্নামেন্টে ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এই স্কোয়াড ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা এবার খেলতে যাচ্ছেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। বয়স, অভিজ্ঞতা এবং ফিটনেস—সব মিলিয়ে তার উপস্থিতি পর্তুগাল দলের জন্য এখনো বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল এবার বিশ্বকাপে কতটা এগোতে পারে, তা নিয়ে ফুটবল মহলে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, এটি হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ, ফলে তার পারফরম্যান্সের দিকে থাকবে আলাদা নজর। অন্যদিকে দলও তাকে ঘিরে বিশেষ কৌশল তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পর্তুগাল দলে এই অতিরিক্ত খেলোয়াড় রাখার সিদ্ধান্ত শুধু গোলরক্ষক পরিস্থিতির জন্য নয়, বরং সামগ্রিক প্রস্তুতির অংশ বলেও মনে করছেন কোচিং স্টাফ। তাদের মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ইনজুরি, ক্লান্তি এবং কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত প্রস্তুত খেলোয়াড় থাকা দলকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়।

ফুটবল বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দল নির্বাচন সবসময়ই একটি জটিল প্রক্রিয়া। একদিকে রয়েছে ফর্ম ও ফিটনেস, অন্যদিকে রয়েছে কৌশলগত ভারসাম্য। পর্তুগালের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোকেও একই ধরনের কৌশল নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

এদিকে সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, নিয়মের সীমার বাইরে গিয়ে ২৭ সদস্যের দল ঘোষণা করা একটি নতুন দৃষ্টান্ত। আবার কেউ কেউ এটিকে কেবল স্ট্যান্ডবাই ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক রূপ হিসেবে দেখছেন।

তবে যেভাবেই দেখা হোক না কেন, পর্তুগালের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে। দলীয় গভীরতা, অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত প্রস্তুতির মাধ্যমে তারা এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে পর্তুগালের এই ব্যতিক্রমী স্কোয়াড সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে চাপের ম্যাচে অতিরিক্ত প্রস্তুত খেলোয়াড়ের ভূমিকা কতটা কাজে আসে, তা নির্ধারণ করবে এই কৌশলের সফলতা।

সব মিলিয়ে, ২৬ সদস্যের নিয়মের ভেতরে থেকেও ২৭ জনকে নিয়ে পর্তুগালের এই পরিকল্পনা ফুটবল বিশ্বে নতুন কৌশলগত আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা বিশ্বকাপের আগেই দলটিকে আলাদা আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত