বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ১১ বার

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও ট্রেডারদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ায় তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় বাজারে স্থিতিশীলতার আশা কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বাধা বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে একই ধরনের উত্তেজনার কারণে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। পরবর্তীতে কিছুটা কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে এবং দাম কিছুটা কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই স্বস্তি আবারও অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে চাপ আরও বেড়েছে। এই দুই কারণ একসঙ্গে কাজ করায় দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The Guardian জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও ইরানের প্রতিক্রিয়ার কারণে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এতে করে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান HFI Research সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক তেল বাজার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা সময়সাপেক্ষ হবে। তাদের মতে, সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা না ফিরলে দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি নতুন চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে। পরিবহন, উৎপাদন ও খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এশিয়ার বাজারে ইতোমধ্যে তেলের দামের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশসহ আমদানি নির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি খরচ বাড়লে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে বাজেট ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো ভূরাজনৈতিক ঘোষণা বা সংঘাতের খবর তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা সৃষ্টি করছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে এবং কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে যায়, তাহলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে আপাতত পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি নতুন চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদনে ব্যয় বাড়া এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত