সর্বশেষ :
জাহ্নবী কাপুরের আধ্যাত্মিক যাত্রা: তিরুপতিতে ৩,৫৫০ সিঁড়ি পাড়ি সড়কে চার প্রাণ ঝরল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়: স্বজনদের আহাজারি বাজেট সামনে রেখে আবাসন খাতে নতুন প্রস্তাব: কতটুকু যৌক্তিক? পোশাক শিল্পে চ্যালেঞ্জ: নীতি-কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল

দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার
দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলামি জীবনদর্শনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম ও অত্যন্ত প্রিয় মাধ্যম হলো তাঁর প্রেরিত শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করা। দরুদ পাঠ করা কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি একজন মুমিনের হৃদয়ে রাসুল (সা.)-এর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। আল-কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পড়েন এবং মুমিনদেরও সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের অসংখ্য আমলের ভিড়ে দরুদ পাঠের আমলটি এতটাই মর্যাদাপূর্ণ যে, এর মাধ্যমে বান্দার পাপ মোচন হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং মহান আল্লাহর রহমত অবারিত ধারায় বর্ষিত হয়। যদিও দরুদ পাঠের কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ সময় নেই, তবুও হাদিস শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী বিশেষ কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যখন দরুদ পাঠ করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা শতগুণ বেড়ে যায় এবং অধিক সাওয়াব পাওয়া যায়।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের পাঁচটি বিশেষ সময়ে দরুদ পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রথমত, নবীর নাম শ্রবণ করা মাত্রই দরুদ পাঠ করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাসুল (সা.)-এর প্রতি অগাধ ভালোবাসা প্রকাশ পায় যখন কোনো ঈমানদার ব্যক্তি প্রিয় নবীর নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে দরুদ পাঠ করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জিবরাঈল (আ.)-এর সতর্কবার্তা সম্বলিত এক ঘটনায় রাসুল (সা.)-কে জানানো হয়েছিল যে, যার কাছে নবীর নাম উল্লেখ করা হলো অথচ সে দরুদ পাঠ করল না, তাকে ধ্বংসের পথে ধাবিত হতে হবে। এই হাদিসটি দরুদ পাঠের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বকে আরও প্রকটভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরে। এটি কেবল আদব নয়, বরং ইমানি দায়বদ্ধতার অংশ।

দ্বিতীয়ত, যেকোনো মজলিস বা বৈঠক শেষ করার পূর্বে দরুদ পাঠ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। মানুষের সামাজিক জীবনে আড্ডা, আলোচনা বা জ্ঞানগর্ভ আলোচনার জন্য অনেক সময় মজলিসে বসতে হয়। কিন্তু সেই মজলিসে যদি আল্লাহর জিকির ও নবীর ওপর দরুদ না থাকে, তবে তা অত্যন্ত পরিতাপের এবং বিফলতার কারণ হতে পারে। হাদিস শরিফে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব মানুষ কোনো মজলিসে বসল অথচ আল্লাহকে স্মরণ করল না এবং তাদের নবীর ওপর দরুদ পড়ল না, তারা শেষ পর্যন্ত বিপদগ্রস্ত ও আশাহত হবে। তাই প্রতিটি বৈঠকের শেষে বা মজলিস ত্যাগের আগে দরুদ পাঠ করা আমাদের জন্য এক পরম কল্যাণ বয়ে আনে।

তৃতীয়ত, আজানের পর দরুদ পাঠ করা মুমিনের জন্য এক শ্রেষ্ঠ সুযোগ। মুয়াজ্জিন যখন আজান দেয়, তখন আজানের বাক্যগুলোর উত্তর দেওয়া এবং আজান শেষে প্রিয় নবীর ওপর দরুদ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা বা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শোনার পর তাঁর ওপর একবার দরুদ পাঠ করবে, বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির এক অনন্য সোপান। আজানের পবিত্র ধ্বনি যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন দরুদ পাঠের মাধ্যমে আমরা সেই পবিত্রতায় শরিক হতে পারি।

চতুর্থত, জুমার দিনকে সপ্তাহের সর্বোত্তম দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিশেষ দিনে রাসুল (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুমার দিনের মর্যাদা অসীম, কারণ এদিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এদিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। নবী করিম (সা.) বলেছেন যে, মুমিনের দরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়। সাহাবারা যখন শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ইন্তেকালের পর তাঁর শরীর তো জরাজীর্ণ হয়ে যাবে, তখন তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে আল্লাহ মাটির জন্য নবীদের দেহ হারাম করে দিয়েছেন। তাই জুমার দিনে অধিকহারে দরুদ পাঠ করা প্রিয় নবীর সান্নিধ্য ও শাফায়াত লাভের অন্যতম মাধ্যম।

পঞ্চমত, মোনাজাত বা দোয়ার পূর্বে দরুদ পাঠ করা দোয়া কবুলের অন্যতম আদব বা শিষ্টাচার। অনেক সময় আমরা আমাদের মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলি, কিন্তু দোয়ার শুরুর আদব রক্ষা করতে ভুলে যাই। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি নামাজের মাঝখানে সরাসরি দোয়া শুরু করেছিল, যা দেখে রাসুল (সা.) তাকে বললেন, সে তাড়াহুড়ো করেছে। তিনি শিখিয়ে দিলেন যে, প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতে হবে, তারপর রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করতে হবে, এরপর নিজের মনের কামনা অনুযায়ী দোয়া করতে হবে। এই নিয়ম মেনে চললে দোয়া কবুল হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়।

পরিশেষে বলা যায়, দরুদ কেবল শব্দের আরাধনা নয়, বরং এটি আত্মিক প্রশান্তির আধার। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রিয় নবীর স্মরণে অতিবাহিত করা একজন মুমিনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত। আলোচ্য পাঁচটি বিশেষ মুহূর্তে দরুদ পাঠের আমলটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেওয়া জরুরি। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রিয় নবীর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের তাওফিক দান করুন এবং তাঁর রহমতের ছায়ায় আমাদের জীবনকে ধন্য করুন। আমিন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত