সর্বশেষ :

দক্ষ জনশক্তি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
  • ২৪ বার
দক্ষ জনশক্তি টেকসই উন্নয়ন

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিল্পায়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় না। মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব নয়।

এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দক্ষতাই অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। যে দেশ দক্ষ কর্মী তৈরি করতে পারবে, সেই দেশই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বিপুল জনসংখ্যা। তবে এই জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে তা আশীর্বাদ নয়, বরং বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হলেও তাদের একটি বড় অংশ শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে একদিকে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। এই বৈপরীত্য দূর করতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় যুগোপযোগী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিবের মতে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবটিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তরুণদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় দক্ষতা ছাড়া কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশে যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়বে, তেমনি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু বিদেশে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক এখনও অদক্ষ বা স্বল্পদক্ষ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ফলে তারা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কাঙ্ক্ষিত মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা বলেন, বর্তমানে দেশের শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির কারণে অনেক প্রচলিত পেশার চাহিদা কমে যাচ্ছে, আবার নতুন নতুন পেশার সৃষ্টি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা জরুরি।

মির্জা ফখরুল বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার দিকেও নজর দিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার জন্য সহজ অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়নকে শুধু বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের জীবনমান, শিক্ষার মান, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। আর এসব ক্ষেত্রের কেন্দ্রে রয়েছে দক্ষ মানবসম্পদ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতই দক্ষ কর্মী সংকটের কথা বলছে। ফলে এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য নীতিনির্ধারণী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ আগামী দশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, শিল্প এবং সেবা খাতে দক্ষ কর্মী তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় উন্নয়নের গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সফল হতে হলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত