বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ২ বার
বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি, পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৬৭ হাজার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। দেশের লাখো শিক্ষার্থীর দীর্ঘ প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার পর শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই পাবলিক পরীক্ষা। প্রথম দিনে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

একই দিনে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) পর্যায়ে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। পরীক্ষার হলে প্রবেশের জন্য সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের গেট খোলা হবে। তবে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নিজ নিজ কক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডের অধীনে ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন ৩ লাখ ৩ হাজার ৯৩ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ২১২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন এবং যশোর শিক্ষা বোর্ডে ২৪০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন।

এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ১৪২টি কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। এ জন্য সারা দেশে ৪৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।

এবারের পরীক্ষাকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ, কক্ষ পরিচালনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকের সংখ্যা দুইয়ের কম রাখা যাবে না। পরীক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ৫ বাই ৬ ফুট বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুইজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা সংশ্লিষ্ট থানার লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার দিন ট্যাগ অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তায় প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে।

নির্ধারিত মোবাইল সেট কোড পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে পারবেন। নির্ধারিত কোডের বাইরে অন্য কোনো সেটে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে। এবার দেশের সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ডিভাইসের তথ্য এবং ডিভিআর বা এনভিআর সংযোগের বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে ক্যামেরা অকার্যকর পাওয়া গেলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের দুর্বলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলবেন এবং কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না।

এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র এলাকায় অপ্রয়োজনীয় মানুষের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য এই কন্ট্রোল রুম থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষা শুধু একটি একাডেমিক মূল্যায়ন নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই পরীক্ষার দিনগুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা প্রশাসনের আশা, শিক্ষক, অভিভাবক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত