সর্বশেষ :

মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক গড়ল নতুন বিশ্বরেকর্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৫ বার
মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক গড়ল নতুন বিশ্বরেকর্ড

প্রকাশ: ৩০ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রে বায়োপিক ঘরানায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক সিনেমা ‘মাইকেল’। মুক্তির পর বক্স অফিসে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে সিনেমাটি পেছনে ফেলেছে ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘ওপেনহাইমার’-কে। এর মধ্য দিয়ে ‘মাইকেল’ এখন বিশ্বের সর্বাধিক আয়কারী বায়োপিক হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওপেনহাইমার’ দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ড ধরে রেখেছিল। পরমাণু বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবন ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। সমালোচকদের স্বীকৃতির পাশাপাশি দর্শকদের আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে বায়োপিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছিল।

তবে প্রায় তিন বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ‘মাইকেল’। সর্বশেষ বক্স অফিস হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটির বৈশ্বিক আয় প্রায় ৯৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে এটি শুধু ‘ওপেনহাইমার’-কে ছাড়িয়ে যায়নি, বরং বায়োপিক চলচ্চিত্রের জন্য নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মাইকেল জ্যাকসনের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা, তার সংগীতের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং ভক্তদের ব্যাপক আগ্রহ সিনেমাটির বাণিজ্যিক সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ। কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে পরিচিত এই কিংবদন্তি শিল্পীর জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগ থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

এর আগেই ‘মাইকেল’ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড দখলে নেয়। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় সিনেমা ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’-কে পেছনে ফেলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে সফল মিউজিক্যাল বায়োপিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ফ্রেডি মার্কারি ও কিংবদন্তি ব্যান্ড কুইনের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ বিশ্বব্যাপী প্রায় ৯০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছিল।

‘মাইকেল’ সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে লায়ন্সগেট। বড় বাজেটের এই চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান নির্মাতা অ্যান্টোইন ফুকুয়া। সিনেমাটির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাতিজা জাফর জ্যাকসন।

জাফর জ্যাকসনের অভিনয়, নাচের দক্ষতা এবং মঞ্চ উপস্থিতি দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। মাইকেল জ্যাকসনের অনন্য নৃত্যভঙ্গি, কণ্ঠস্বরের আবহ এবং পারফরম্যান্সের ধরন পর্দায় ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টা প্রশংসিত হয়েছে।

সিনেমাটিতে শুধু মাইকেল জ্যাকসনের সংগীতজীবনের সাফল্য তুলে ধরা হয়নি, বরং তার ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়েছে। একজন শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করে কীভাবে তিনি বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পীদের একজন হয়ে উঠেছিলেন, সেই গল্পই সিনেমার মূল উপজীব্য।

মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ছিল সাফল্য, সংগ্রাম ও বিতর্কের এক জটিল মিশ্রণ। শৈশব থেকেই প্রচণ্ড জনপ্রিয়তার চাপ, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ, বিশ্বজোড়া খ্যাতির সঙ্গে আসা একাকিত্ব এবং বিভিন্ন বিতর্ক—সবকিছুই তার জীবনের অংশ ছিল।

‘মাইকেল’ সিনেমায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের সৃজনশীলতা ও প্রতিভার মাধ্যমে সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন। তার অ্যালবাম, নাচ, মঞ্চ পরিবেশনা এবং সংগীতশৈলী বিশ্ব সংস্কৃতিতে যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, সেটিও সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বায়োপিকের জনপ্রিয়তার পেছনে মূল কারণ হলো দর্শকের প্রিয় ব্যক্তিত্বদের জীবনের অজানা গল্প জানার আগ্রহ। একজন শিল্পী বা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের সফলতার পেছনের সংগ্রাম, সিদ্ধান্ত এবং মানবিক দিকগুলো বড় পর্দায় তুলে ধরলে তা দর্শকদের সঙ্গে আলাদা সংযোগ তৈরি করে।

‘ওপেনহাইমার’ যেখানে বিজ্ঞান, রাজনীতি ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে তুলে ধরেছিল, সেখানে ‘মাইকেল’ তুলে ধরেছে সংগীত, খ্যাতি ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প। দুটি সিনেমার বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও উভয়ই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।

বক্স অফিস সাফল্যের পাশাপাশি ‘মাইকেল’ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বায়োপিক নির্মাণে সংগীতশিল্পীদের জীবনকে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেই ক্ষেত্রেও সিনেমাটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

মাইকেল জ্যাকসন ২০০৯ সালে মারা গেলেও তার সংগীত এখনো বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের কাছে জনপ্রিয়। তার গান, নাচের ধরন এবং শিল্পীসত্তা আজও নতুন প্রজন্মকে প্রভাবিত করছে। সেই কারণেই তার জীবনভিত্তিক সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ এত ব্যাপক হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে ‘মাইকেল’ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যদি সিনেমাটি সেই সীমা অতিক্রম করতে পারে, তবে এটি শুধু বায়োপিক নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে জায়গা করে নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত