সর্বশেষ :

সরকারি রাজস্ব জমায় বুধবার থেকে বাধ্যতামূলক এ-চালান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ১৩ বার
সরকারি রাজস্ব জমায় বুধবার থেকে বাধ্যতামূলক এ-চালান

প্রকাশ: ৩০ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে বুধবার (১ জুলাই) থেকে এ-চালান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থার অবসান ঘটছে। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দ্রুত লেনদেন নিশ্চিত করা এবং নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ বিভাগ জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা তাদের অধীনস্থ কোনো দপ্তর এ-চালান ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে সরকারি রাজস্ব বা অন্যান্য প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত আলাদা কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের হিসাবে থাকা সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ-চালান ব্যবস্থার ব্যবহার গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এই কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করেই পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

এ-চালান ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরে। শুরুতে মাত্র ১৭টি চালান দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও গত সাত অর্থবছরে এই প্ল্যাটফর্মে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে। এ সময়ে সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ-চালানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা সরকারি অর্থের পরিমাণ কমবে এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

ডিজিটাল এ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সরকারি অর্থ জমা দেওয়ার পর তা দ্রুত ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। ফলে অর্থ কোথায়, কী পরিমাণে এবং কোন খাত থেকে এসেছে—এসব তথ্য সহজেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমানে সরকারি রাজস্ব, ফি এবং বিভিন্ন সেবা মূল্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের আর নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় গিয়ে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না। অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজেই অর্থ পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, অনলাইন চালানের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময়ে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। একই সময়ে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) পদ্ধতিতে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ-চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে পৌঁছে যায়। এতে রাজস্ব আদায়ের প্রকৃত চিত্র দ্রুত পাওয়া যায় এবং আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হয়। পাশাপাশি সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা ও নগদ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ-চালান ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক, হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হচ্ছে। এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায় ও লেনদেনের তথ্য দেখতে পারছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতির বিস্তার দুর্নীতি ও অনিয়ম কমাতে সহায়ক হবে। ম্যানুয়াল চালানের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য, জাল কাগজপত্র এবং অর্থ জমার তথ্য যাচাইয়ে যে জটিলতা তৈরি হতো, এ-চালানের মাধ্যমে তা অনেকটাই কমবে।

চালান যাচাই ব্যবস্থার কারণে ভুয়া চালান বা জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার সুযোগও সীমিত হবে। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আয় ও অর্থপ্রাপ্তির হিসাব আরও সহজে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করতে পারবে।

অর্থ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবেই এ-চালান ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি অর্থ দ্রুত কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভুয়া চালান প্রতিরোধ এবং সরকারের আর্থিক অবস্থার সঠিক চিত্র তৈরি করা।

নতুন অর্থবছর থেকে এ-চালান বাধ্যতামূলক হওয়ার মাধ্যমে দেশের সরকারি লেনদেন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত