প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সোমবার দুপুরের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। সকালের পর থেকেই আকাশ মেঘলা হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে দমকা হাওয়ার কারণে স্বাভাবিক নৌচলাচল ও জনজীবলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
যেসব জেলার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা হলেও বজ্রপাত ও আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া জনজীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক, নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং ছোট নৌকার যাত্রীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকাতেও দিনের বিভিন্ন সময়ে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কয়েক দফায় বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার কারণে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হতে পারে। অফিসগামী মানুষ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী এবং উপকূলসংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। একইভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলেও বজ্রবৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়াতেও স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখী ধরনের আবহাওয়া তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা ১ নম্বর সতর্কসংকেত মূলত সম্ভাব্য ঝোড়ো হাওয়ার বিষয়ে আগাম সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ সংকেতের অর্থ হলো, নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী, জলাশয় কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া, বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকা এবং গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদেরও বজ্রপাতের সময় জমিতে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দিয়েছে। নতুন করে বৃষ্টিপাত হলে নিচু এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যানজট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বৃষ্টিপাত আমন ধানের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি কিংবা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সবজি, ফল এবং অন্যান্য ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই মাঠের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়ার পরিবর্তন খুব দ্রুত ঘটতে পারে। তাই পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রী, জেলে, কৃষক এবং উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত ব্যক্তিদের সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের সংখ্যা এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সব মিলিয়ে সোমবার দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নৌযান পরিচালনাকারী, কৃষক এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে নতুন পূর্বাভাস বা অতিরিক্ত সতর্কবার্তাও জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।