দিল্লির আন্দোলনে জাতীয় যুবশক্তির সংহতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
দিল্লির আন্দোলনে জাতীয় যুবশক্তির সংহতি

প্রকাশ: ২১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে উদ্ভূত এক চরম উত্তাল, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী পরিস্থিতিতে দেশটির তরুণ সমাজের আলোচিত, সংগ্রামী ও উদীয়মান রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির পূর্বঘোষিত সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভারতীয় পুলিশের নির্বিচার বলপ্রয়োগ, বেধড়ক লাঠিচার্জ এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়ক অভিজিৎ দীপকসহ বহু আন্দোলনকারীকে অন্যায়ভাবে আটকের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের তরুণদের অগ্রগামী রাজনৈতিক সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’।

ভারতের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার চরম অরাজকতা, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং এর নৈতিক দায় স্বীকার করে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দেশের তরুণ-তরুণীরা যখন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তখন তাদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত চড়াও হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই ন্যক্কারজনক দমনপীড়নের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জাতীয় যুবশক্তির পক্ষ থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণ-তরুণীদের সকল ন্যায়সঙ্গত, যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও একাত্মতা ঘোষণা করা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রামাণ্য তথ্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষ প্রতিবেদন এবং মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক দলিলের বরাত দিয়ে জাতীয় যুবশক্তির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত জোরালো ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, যেকোনো সভ্য ও সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দেশের সাধারণ নাগরিক এবং যুব সমাজের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করা, সুশৃঙ্খলভাবে জনসমাবেশ করা এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্মগত অধিকার রয়েছে, যা আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মৌলিক স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জনগণের এই স্বাধীন গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য যখনই রাষ্ট্রীয় শক্তির বলপ্রয়োগ বা দমনমূলক কোনো নীতি গ্রহণ করা হয়, তা কখনো কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না।

যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সামাজিক অসন্তোষ কিংবা প্রশাসনিক ব্যর্থতার অবসান হওয়া উচিত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, পারস্পরিক গঠনমূলক সংলাপ, আইনের শাসন এবং সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

ভারতের মতো একটি বৃহৎ ও প্রাচীন গণতন্ত্রে তরুণ প্রজন্মের যৌক্তিক আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে পুলিশি নির্যাতন ও পাইকারি আটকের সংস্কৃতি কেবল নাগরিক স্বাধীনতাই ক্ষুণ্ন করে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়, যা কোনোভাবেই একটি সুস্থ, প্রগতিশীল ও মানবিক সমাজ ব্যবস্থার পরিচায়ক হতে পারে না।

জাতীয় যুবশক্তি আরও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, দেশের তরুণ সমাজ, ছাত্রসমাজ এবং উদীয়মান যুবশক্তি হলো যেকোনো জাতির ভবিষ্যৎ, মূল চালিকাশক্তি এবং অপরিহার্য মেরুদণ্ড।

তাই তাদের এই ধরনের কোনো সৎ, অকৃত্রিম ও ন্যায়সঙ্গত দাবিকে কঠোরহস্তে দমন করার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের উচিত অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনা এবং তাদের সঙ্গে খোলামেলা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই সঠিক সমাধান খুঁজে বের করা।

তরুণদের এই ধরনের অংশগ্রহণমূলক ও অহিংস মনোভাবই মূলত একটি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে আরও বেশি শক্তিশালী, গতিশীল, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে।

তাই ভারতের সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, দিল্লির এই অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয় ঘটনার একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত অতি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র ও নাগরিকদের ওপর পরিচালিত এই অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের প্রতিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে যেন গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক উপায়ে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার উপযুক্ত পরিবেশ সবসময় বজায় থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও নমনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংহতি বার্তার একেবারে শেষ পর্যায়ে জাতীয় যুবশক্তির শীর্ষস্থানীয় নেতারা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রাজনৈতিক বার্তায় যোগ করেছেন যে, মানবতা, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছ জবাবদিহিতা এবং সার্বিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কখনোই কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা আঞ্চলিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

বিশ্বের যেকোনো কোণায় তরুণ সমাজের আত্মমর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম মূলত বিশ্বব্যাপী প্রসারিত গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবাধিকার এবং মানবিক মর্যাদার অবিচ্ছেদ্য ও অভিন্ন একটি অংশ।

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মুক্তিকামী ও গণতান্ত্রিক মানুষ সবসময় বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিপীড়িত ও অধিকারবঞ্চিত তরুণ সমাজের যৌক্তিক আন্দোলনের পাশে অতীতেও ছিল এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে পাশে থাকবে।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই সাহসী ও অহিংস আন্দোলন কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ শিক্ষাব্যবস্থার গলদকেই উন্মোচন করেনি, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন এক রাজনৈতিক জাগরণ ও অধিকার সচেতনতার দীপ্ত বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনের বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিকে নির্ধারণ করতে এক দূরপ্রসারী ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলেই সচেতন মহল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত