সব মামলায় জামিন, মুক্তির পথে তৌহিদ আফ্রিদি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার
সব মামলায় জামিন, মুক্তির পথে তৌহিদ আফ্রিদি

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে ও পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলায় জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ ঢাকার ওয়ারী থানায় করা প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে ওয়ারী থানার মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের এ আদেশের পর আইনজীবী জানান, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় তিনি আগেই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। সর্বশেষ ওয়ারী থানার মামলাতেও জামিন পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন সব মামলায় জামিন নিশ্চিত হয়েছে এবং বর্তমানে তার মুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ওয়ারী থানার মামলাটি প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত চলমান থাকলেও আদালত জামিন আবেদন বিবেচনা করে তা মঞ্জুর করেন। তবে জামিন প্রদান কোনোভাবেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়; তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম আইনানুগভাবে চলবে।

তৌহিদ আফ্রিদিকে গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারের পর তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পর্যায়ক্রমে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তিনি জামিনের আবেদন করলে দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

পরে চলতি বছরের ১১ জুন ওয়ারী থানার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান। আদালত আবেদন বিবেচনা করে ১৫ জুন তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর এই মামলায়ও জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে মঙ্গলবার আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যুতি গত বছরের ১৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফ্রিল্যান্সিং কাজের প্রস্তাব পান। নিজেকে ‘ফাতেমা ঐশী’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তাকে অনলাইনে গুগল রিভিউ দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে বলে জানান। পরবর্তীতে তাকে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করতে বলা হয় এবং কাজের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে বাদীকে পরীক্ষামূলক কাজের জন্য ৩০০ টাকা পাঠানো হয়, যাতে তিনি প্রস্তাবটির প্রতি আস্থা অর্জন করেন। এরপর ‘লিসা’ নামে পরিচয় দেওয়া আরেক ব্যক্তি তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করেন। সেখানে অন্য সদস্যদের অর্থ বিনিয়োগ করে লাভসহ ফেরত পাওয়ার বিভিন্ন স্ক্রিনশট নিয়মিত প্রদর্শন করা হতো। এসব দেখে প্রলুব্ধ হয়ে বাদী প্রথমে দুই হাজার টাকা পাঠান এবং পরে তিনি দুই হাজার আটশ টাকা ফেরত পান। এতে তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে পুরো কার্যক্রমটি বৈধ।

এরপর তাকে আরও বড় অঙ্কের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং আরও বেশি লাভের আশ্বাস দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ধাপে ধাপে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে মোট দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ বা লাভ ফেরত না পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্তের এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তৌহিদ আফ্রিদিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনও কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আসামির জামিন পাওয়া মানেই তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন—এমনটি নয়। জামিন একটি সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালত বিবেচনা করে প্রদান করেন। মামলার তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় বা দায়মুক্তির বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

তৌহিদ আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত একটি নাম। কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একইভাবে সর্বশেষ সব মামলায় জামিন পাওয়ার খবরও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

তবে আইনি বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন মন্তব্য বা মতামতের পরিবর্তে আদালতের কার্যক্রম ও প্রমাণভিত্তিক বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই আস্থা রাখা উচিত। বিচারাধীন কোনো বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কিংবা কাউকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করা আইন ও ন্যায়বিচারের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সবশেষ আদালতের আদেশের ফলে তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে চলমান তিনটি মামলাতেই জামিন কার্যকর হয়েছে। ফলে অন্য কোনো মামলায় তাকে আটক রাখার নির্দেশ বা আইনি বাধা না থাকলে কারামুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম প্রচলিত আইন অনুযায়ী চলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত