অননুমোদিত হর্নে কঠোর বিআরটিএ, জারি নতুন নির্দেশনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
অননুমোদিত হর্নে কঠোর বিআরটিএ, জারি নতুন নির্দেশনা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যানবাহনের অতিরিক্ত ও বিকট শব্দের হর্ন দীর্ঘদিন ধরেই জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে এবার অননুমোদিত হর্ন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নতুন নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জরুরি সেবায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো মোটরযানে বহুস্বরের, হাইড্রোলিক, হুটার কিংবা বিকট শব্দের অননুমোদিত হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিআরটিএ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি-৮১ অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপক যান, উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত মোটরযান এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ যানবাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনে বহুমুখী সুরযুক্ত হর্ন, হাইড্রোলিক হর্ন, হুটার বা তীব্র, কর্কশ, আকস্মিক এবং ভীতিকর শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র সংযোজন, পুনঃস্থাপন কিংবা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিআরটিএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনে অনুমোদনহীন হর্ন ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এসব হর্ন শুধু শব্দদূষণই সৃষ্টি করছে না, বরং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা এবং ব্যস্ত নগর সড়কে এ ধরনের বিকট শব্দ শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ রোগী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হাইড্রোলিক হর্ন বা হুটারের মতো অননুমোদিত যন্ত্র অনেক সময় চালকদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার পাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। এতে বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানোর প্রবণতা বাড়ে, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। একই সঙ্গে অন্যান্য চালক ও পথচারীরা বিভ্রান্ত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন হর্ন সংযোজন ও ব্যবহার একটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সব মোটরযান মালিক, চালক ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের প্রতি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে যানবাহনের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দদূষণ শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি বড় হুমকি। দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার শব্দের মধ্যে অবস্থান করলে মানুষের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও) নগর এলাকায় অতিরিক্ত শব্দদূষণকে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য বিশেষ ধরনের হর্ন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সাধারণ যানবাহনে একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করলে জরুরি সেবার কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। কারণ এতে অন্য চালকদের জন্য প্রকৃত জরুরি যানবাহন শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং সড়কে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুধু আইন প্রণয়ন বা নির্দেশনা দিলেই হবে না; এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ট্রাফিক পুলিশের তদারকি বৃদ্ধি এবং যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার সময় অননুমোদিত হর্ন শনাক্ত করে তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজটের কারণে অনেক চালক অকারণে বারবার হর্ন ব্যবহার করেন। এতে পরিবেশে শব্দের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার অনেক ওপরে চলে যায়। পরিবেশবিদদের মতে, হর্নের অপব্যবহার রোধে চালকদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বিআরটিএর এই নতুন নির্দেশনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, নগর পরিবেশ বাসযোগ্য রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য পূরণে এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অননুমোদিত হর্নের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত