২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, বিমান ভাড়ায় স্বস্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৭ বার
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, বিমান ভাড়ায় স্বস্তি

প্রকাশ: ২১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৭ সালের বহুল কাঙ্ক্ষিত সরকারি হজ প্যাকেজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়। বর্তমান সরকারের অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ এ বছর হজযাত্রীদের দীর্ঘদিনের প্রধান দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিমান ভাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হয়েছে। বিমান ভাড়া প্রায় সাঁইত্রিশ হাজার টাকা হ্রাস করে সর্বমোট এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির হজ্জযাত্রীদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। বিগত বছরগুলোতে চড়া বিমান ভাড়ার কারণে পবিত্র হজ পালনের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে বিমান ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে আল্লাহর মেহমান হয়ে পবিত্র বাইতুল্লাহ শরিফ ও পবিত্র মদিনায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখা সাধারণ মানুষ অত্যন্ত কম খরচে এবং তুলনামূলক সহজ শর্তে তাদের আজীবনের পবিত্র ধর্মীয় ফরজ ইবাদত সম্পন্ন করার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করতে পারবেন।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া এগারোটার দিকে রাজধানী ঢাকার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন মাননীয় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই প্যাকেজের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের আর্থিক সামর্থ্য এবং সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনের জন্য মূলত দুটি পৃথক প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি অর্থাৎ ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর সর্বমোট খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ পনেরো হাজার দুই শ তেষট্টি টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রীরা তুলনামূলক উন্নত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন, যা তাদের দীর্ঘ সৌদি আরব অবস্থানকালে শারীরিক স্বস্তি ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, সমাজের তুলনামূলক সাশ্রয়ী আয়ের মানুষের কথা বিশেষভাবে মাথায় রেখে ঘোষণা করা হয়েছে ‘হজ প্যাকেজ-২’, যাকে অত্যন্ত সময়োপযোগীভাবে একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ হিসেবে সাজানো হয়েছে। এই দ্বিতীয় প্যাকেজের সর্বমোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ছয় শ আটচল্লিশ টাকা, যা বিগত বছরের তুলনায় যথেষ্ট যৌক্তিক ও সহনশীল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের প্রতিটি ধর্মপ্রাণ নাগরিকের ধর্মীয় অনুশাসন পালন সহজতর করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র হজ পালনের পবিত্র এই যাত্রাকে যেন কোনোভাবেই অতিরিক্ত আর্থিক সংকটের কারণে ব্যাহত হতে না হয়, সে বিষয়টি বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করেছে। বিমান ভাড়ার এই বিশাল অংকের হ্রাস কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি মূলত সাধারণ মানুষের প্রতি সরকারের গভীর মমতা ও দায়িত্বশীলতার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। সৌদি আরবে হজের বিভিন্ন সেবা খাতের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং যথাযথ কূটনৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতার কারণে সরকারি ব্যবস্থাপনার এই হজ প্যাকেজগুলোর খরচ গতবারের তুলনায় একটি সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, সরকারি এই প্যাকেজগুলো ঘোষণার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনের জন্য পূর্ণাঙ্গ হজ প্যাকেজ খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। আগামী বুধবার দেশের বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর শীর্ষ সংগঠন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা হাব আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজ নিজ ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ ঘোষণা করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে যে, এ বছর হজে গমনের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে মক্কা ও মদিনায় থাকা-খাওয়া, যাতায়াত এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। বিগত বছরগুলোতে হজযাত্রীদের নানা ধরনের যে সকল দুর্ভোগ বা অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হতে হতো, বর্তমান সরকার সেই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্ত হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। হজ যাত্রীদের প্রি-রেজিস্ট্রেশন এবং মূল রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা, ব্যাংক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার যাবতীয় তথ্যাদি খুব দ্রুতই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া সরকারি হজ প্যাকেজের পাশাপাশি বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোও যেন অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি যৌক্তিক ও জনবান্ধব প্যাকেজ ঘোষণা করে, সে বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নির্দেশনা বজায় রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

পবিত্র হজের মতো একটি মহান ও পবিত্র ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে সম্ভাব্য হজযাত্রীদের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ধর্ম মন্ত্রণাল কর্তৃক ঘোষিত এই সাশ্রয়ী প্যাকেজ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিমান ভাড়া হ্রাসের সুসংবাদটি দেশের ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতার মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সরকারের এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনগুলোতে হজ ব্যবস্থাপনার মান আরও উন্নত হবে এবং দেশের প্রতিটি কোণায় বসবাসকারী ইচ্ছুক মুসলমান কোনো রকম অপ্রীতিকর জটিলতা ছাড়াই পরম শান্তিতে আল্লাহর ঘরে মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সকল হজ্জযাত্রীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান এবং একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও সফল হজ মৌসুম সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত