২০২৭ হজ নিবন্ধন শুরু, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ বার
২০২৭ হজ নিবন্ধন শুরু, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ থেকে ২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালন করতে আগ্রহীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই নিবন্ধন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই হজে যেতে ইচ্ছুকদের সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত হজ কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ অনুসরণ করে বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। প্রতি বছর হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের হজ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আগেভাগেই নিবন্ধন, অর্থ জমা, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, হজে যেতে আগ্রহী প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ করার পর নির্ধারিত হজ প্যাকেজ অনুযায়ী অবশিষ্ট অর্থ আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বাকি অর্থ পরিশোধের মাধ্যমেই চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হবে এবং সংশ্লিষ্ট হজযাত্রী পরবর্তী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনাতেই নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহীরা ই-হজ সিস্টেমে নিজস্ব ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে। এতে প্রযুক্তিগত সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিরাও সহজে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় নির্ধারিত ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে ইচ্ছুকদের সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিতে হবে। কোন এজেন্সির কোন ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দিতে হবে, সে তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে। এ কারণে নিবন্ধনের আগে এজেন্সির তথ্য যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

হজ নিবন্ধনের জন্য বৈধ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিবন্ধনকারী ব্যক্তির পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা অল্প মেয়াদের পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন করা যাবে না। তাই যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাদের দ্রুত নবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক হজযাত্রীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নির্বাচন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও টিকা প্রদানের জেলা, হজের ধরন এবং পছন্দের হজ প্যাকেজ। পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সৌদি আরবের নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

স্বাস্থ্যগত যোগ্যতার বিষয়েও এবার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের স্বাস্থ্যবিধি এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় কয়েকটি শারীরিক অবস্থাকে হজযাত্রার জন্য অনুপযুক্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি, স্নায়ুবিক বা মানসিক রোগে ভুগছেন এমন রোগী এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে অংশ নিতে পারবেন না। একইভাবে যারা ক্যান্সারের জন্য কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন, তারাও হজের জন্য ফিটনেস সনদ পাবেন না।

এছাড়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যক্ষ্মা, হেমোরেজিক ফিভারসহ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হজে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হওয়ার কারণে হজে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নারী হজযাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ স্বাস্থ্য নির্দেশনা রয়েছে। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীদের হজযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ দেওয়া হবে না। এ সিদ্ধান্ত মা ও অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এবারের হজ নিবন্ধনে বয়স সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি হজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক হজ ব্যবস্থাপনার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করে এই বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন, অর্থ জমা, প্যাকেজ নির্বাচন এবং পরবর্তী কার্যক্রম অনলাইনে পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকায় হজযাত্রীদের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজ জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত। তাই নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্টের মেয়াদ, স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা এবং অর্থ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে পরবর্তী ধাপে কোনো ধরনের জটিলতার সম্ভাবনা কমে যাবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি পবিত্র হজ পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেই প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে সোমবার শুরু হওয়া প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হজযাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে পবিত্র ভূমিতে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত