হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের দাবি এনসিপির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৭ বার
হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের দাবি এনসিপির
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ও তৎপরতাকে কেন্দ্র করে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই রাজনৈতিক দৃশ্যপটের বাইরে থাকা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান করা এই নেত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। এর অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর ভাষায় শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দাবি জানান যে, যেহেতু তিনি আদালতের রায়ে দণ্ডিত এবং পলাতক একজন আসামি, তাই অবিলম্বে তাকে এবং তার সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতের ওই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার দায়ে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যাকে আদালত দণ্ড প্রদান করেছে, তার কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এনসিপির নেতারা মনে করেন, দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই পলাতক অবস্থায় এমন বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে, যা দেশের ভেতরকার শান্ত পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আইনের শাসনকে সমুন্নত রাখতে হলে অবিলম্বে দণ্ডিত অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের প্রাপ্য শাস্তির মুখোমুখি করার কোনো বিকল্প নেই বলে তারা জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার শারীরিক উপস্থিতি ও তার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সন্দেহ ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রশ্ন রাখেন যে, বর্তমানে যে বক্তব্য বা অডিও-ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে, তাতে আসলে শেখ হাসিনা জীবিত আছেন কি না বা তার প্রকৃত অবস্থান কী, তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা ও রহস্য রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে নস্যাৎ এবং অস্থিতিশীল করার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সরকারের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের কিছু ক্ষেত্রে দুর্বলতা বা ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে তারা এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শুধু রাজনৈতিক সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এনসিপির মুখপাত্র, তিনি দেশের সমস্ত গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন যে, দেশ ও জনগণের স্বার্থে দণ্ডিত এবং পলাতক কোনো অপরাধীর উসকানিমূলক বক্তব্য বা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা যেন মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে প্রচার করা না হয়। গণমাধ্যম যদি এই ধরনের অপপ্রচারের হাতিয়ারে পরিণত হয়, তবে তা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সমান হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। জনগণের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ক্রান্তিলগ্নে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে গণমাধ্যমের জোরালো অবস্থান অত্যন্ত আবশ্যক।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের প্রসঙ্গটিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সাকিব আল হাসানকে ঘিরে অতীতে যে বিতর্ক ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তার আপাত অবসান ঘটেছে। তিনি দাবি করেন যে, সম্প্রতি একটি লাইভ সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে বা অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সাকিব নিজেই জাতির সামনে প্রমাণিত করেছেন যে, তিনি ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তার বিভিন্ন কার্যকম দেশের সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। একজন জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ হওয়া সত্ত্বেও দেশের সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো স্বৈরাচারী শক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে এনসিপি নেতারা মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন এবং সরকারের কাছে দণ্ডিত আসামিদের প্রত্যর্পণের দাবি দেশের চলমান রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে যখন দেশ একটি গণতান্ত্রিক সংস্কার ও নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সাবেক শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন উসকানিমূলক বার্তা বা তৎপরতা রাজনৈতিক মহলকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। সাধারণ জনতাও এখন চায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক এবং দেশের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা চক্রান্তের বীজ যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। এনসিপির এই কঠোর হুশিয়ারি এবং দাবি আদায়ের আন্দোলন আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিশেষে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের আদর্শ রক্ষা করার যে অঙ্গীকার এনসিপির নেতারা ব্যক্ত করেছেন, তা সচেতন দেশবাসীর মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত