‘বুড়ো বয়সে ভীমরতি’, অলি আহমদকে ফজলুর রহমানের কটাক্ষ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ বার
‘বুড়ো বয়সে ভীমরতি’, অলি আহমদকে ফজলুর রহমানের কটাক্ষ
প্রকাশ:   ১২ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন মেরুকরণ। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। এই ঘোষণার পরপরই কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান অলি আহমদের কঠোর সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, বুড়ো বয়সে অলি আহমদের ভীমরতি হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপচারিতায় অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান অত্যন্ত ক্ষুরধার ভাষায় অলি আহমদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজনীতিতে কিছু মানুষ থাকে যারা অবিশ্বস্ত এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অবস্থান ও পক্ষ পরিবর্তন করতে দ্বিধা করে না। অলি আহমদ এখন ঠিক সেই অবস্থানেই আছেন। এর চেয়ে বেশি কঠোর কোনো মন্তব্য করে আমি তাকে আর অপমান করতে চাই না। আমার দৃষ্টিতে, বুড়ো বয়সে যে ধরনের অসংলগ্ন আচরণ দেখা যায়, যাকে আমরা গ্রাম্য ভাষায় ভীমরতি বলি, অলি আহমদ এখন সেই রোগেই ভুগছেন।
রাষ্ট্রপতি পদের মতো একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচনে কোনো বাস্তব সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও অলি আহমদের প্রার্থী হওয়াকে তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন। সংসদীয় গণিতের দিকে ইঙ্গিত করে ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদে ভোটের হিসাব পরিষ্কার। যেখানে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ থেকে ৭৬টি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে বিরোধী পক্ষের হাতে রয়েছে ২২৫টি ভোট। এই বাস্তব গাণিতিক সমীকরণ জেনেও যারা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাদের সুস্থ চিন্তার অভাব রয়েছে বলেই আমি মনে করি। অলি আহমদের মতো একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ এই সাধারণ হিসাবটি না বোঝার কোনো কারণ নেই, যদি না তিনি মেন্টালি ডিস্টার্ব বা বিভ্রান্ত থাকেন।
মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কর্নেল অলি আহমদের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। একসময়ের জেড ফোর্সের অধীনস্থ এবং বীর বিক্রম উপাধি পাওয়া এই মুক্তিযোদ্ধা অলি আহমদকে এখন আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ হিসেবে মনে করেন না বলে তিনি সরাসরি জানান। তাঁর মতে, অলি আহমদের রাজনৈতিক অবস্থান ও পক্ষ পরিবর্তনের ধারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাজনীতিতে অলি আহমদের এই পথচলা এখন আর সাধারণ ভোটার বা রাজনৈতিক সচেতন মানুষ মেনে নিতে পারছেন না।
বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তুললে ফজলুর রহমান কিছুটা রহস্যময় ভঙ্গিতে বলেন, এই বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলার সময় আসেনি। তবে তিনি দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে অভিজ্ঞতার প্রতীক উল্লেখ করে তিনি জানান, দলের স্থায়ী কমিটি যে সিদ্ধান্তই নেবে, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং সঠিক সময়ে নেওয়া হবে। বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা এখন জাতীয় স্বার্থে দলের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কর্নেল অলি আহমদের মতো একজন নেতা, যিনি দীর্ঘ সময় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের দল গঠন করেছেন, তাঁর এই জামায়াত জোটে যোগদান এবং রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এবং অলি আহমদকে কেন্দ্র করে গঠিত এই ১১ দলীয় জোট আসলে সরকারকে চাপে ফেলার একটি কৌশলী পদক্ষেপ কি না, তা নিয়েও রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। তবে এই কৌশলের কার্যকারিতা কতটুকু হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও।
ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ কি না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বা সমমনা রাজনীতিকদের মধ্যে আদর্শিক এই দূরত্ব এখন স্পষ্ট। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্য একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি তাঁর এই কঠোর মন্তব্য মূলত দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মেরুকরণেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। অলি আহমদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা দেখার জন্য এখন দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যখন নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, তখন এ ধরনের পাল্টাপাল্টি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সুস্থ রাজনীতির চর্চাই এখন কাম্য। সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের এই তীব্র সমালোচনা অলি আহমদের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপে কী প্রভাব ফেলবে এবং ১১ দলীয় জোট তাদের এই প্রার্থী নিয়ে কতদূর অগ্রসর হতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজনীতির মাঠে শেষ কথা বলে কিছু নেই, এই প্রবাদের মতোই অলি আহমদের আজকের এই অবস্থান আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের যত কৌতূহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত