উদ্যোক্তা হতে তরুণদের আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ বার
উদ্যোক্তা হতে তরুণদের আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
প্রকাশ: ১২ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের তরুণ সমাজকে কেবল গতানুগতিক শিক্ষার পেছনে না ছুটে কারিগরি শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে আত্মনির্ভরশীল ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে যুবসমাজকে উদ্যোক্তা মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকিতে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এর উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক যুব দিবসের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এই দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। মন্ত্রীর এই সুদূরপ্রসারী ঘোষণা এবং উদ্দীপনামূলক আহ্বান দেশের লাখ লাখ বেকারের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে এবং কর্মক্ষম করে তুলতে পারলে তারা শুধু বাংলাদেশের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সমগ্র বিশ্বের এক অমূল্য সম্পদে পরিণত হবে। বর্তমান জনমিতিক লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল ঘরে তুলতে হলে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি যুগোপযোগী কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সরকার যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পেশাদার ট্রেডে তরুণদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের ব্যবসা শুরু করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য বা পুঁজি নেই, সরকার তাদের জন্য বিশেষ সিড মানি বা প্রারম্ভিক পুঁজির সহায়তা প্রদান করছে।
তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথকে আরও সুগম করতে চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একটি বিশাল অংকের তহবিল বরাদ্দ রাখার কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, উদ্যোক্তা সৃষ্টির মহৎ উদ্দেশ্যে চলতি বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্ম যেন কোনো আর্থিক সংকটে না ভুগে তাদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক আইডিয়া বা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেজন্যই এই তহবিল কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই উদার আর্থিক সহায়তা তরুণদের মনে এক গভীর আত্মবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, বর্তমান সরকার একটি সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই মহান লক্ষ্য অর্জন করা তখনই সম্ভব হবে যখন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের পাশাপাশি যুবসমাজ সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ এবং উন্নয়ন সহযোগীরাও তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকরা বর্তমান বাজারের চাহিদা ও বৈশ্বিক ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রাসঙ্গিক দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দেন। এছাড়া পারস্পরিক যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিংয়ের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের ক্যারিয়ারের ভিত্তি মজবুত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তরুণদের কেবল সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেদের আটকে না রেখে, দক্ষ কর্মী, সফল উদ্যোক্তা, দূরদর্শী নেতা, নীতিনির্ধারক এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের সাহসী রূপকার হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান এবং সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের মানসিকতা তরুণদের সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের প্রথিতযশা উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তূজা, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সম্মানিত কূটনীতিকসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে। সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনের এমন উদ্যোগ তরুণ সমাজকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা প্রদানে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বক্তারা বিশ্বাস করেন যে, তরুণদের শক্তিকে সঠিক পথে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নয়নের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী আহ্বান এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দেশের তরুণ সমাজকে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে যুবসমাজ যখন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখবে, তখন বেকারত্বের অভিশাপ থেকে দেশ মুক্ত হবে। ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড এবং সিড মানির মতো পদক্ষেপগুলো তরুণদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইয়ে তরুণরাই হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, আর তাঁদের সেই পথচলাকে মসৃণ করতেই নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে বর্তমান সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত