বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের সমালোচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার
বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের সমালোচনা
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানা সমীকরণ ও মতপার্থক্যের মাঝেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র তথা সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের এ ধরনের কার্যক্রমকে কোনোভাবেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির স্থায়ী কমিটির একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার তীব্র সমালোচনা এবং এর কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। দেশের প্রধান প্রশাসনিক এবং নির্বাহী দায়িত্ব পালনের কেন্দ্রবিন্দুতে বসে এ ধরনের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে কর্নেল অবসারপ্রাপ্ত অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনে এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও প্রতিবাদ জানান জোটের সমন্বয়ক। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সচিবালয়ে রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠানের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেন যে সচিবালয় হলো মূলত একটি নির্বাহী ও প্রশাসনিক জায়গা, যেখান থেকে পুরো দেশের নীতিনির্ধারণী ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার কথা। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ধরনের নির্বাহী ভবনে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো পূর্বদৃষ্টান্ত বা রেকর্ড তাঁদের জানা নেই বলে তিনি দাবি করেন।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা প্রশ্ন তোলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো আদতে গণতন্ত্রের মূল চেতনাকে কোন দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করছে। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে মন্তব্য করেন যে, নীতি বা দৃষ্টিভঙ্গি নিজের দলের অনুকূলে গেলেই কেবল তাকে গণতন্ত্র বলে মেনে নেওয়া আর নিজেদের মতের বাইরে গেলেই তাকে স্বৈরতন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সচিবালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় শীর্ষ বৈঠক সম্পন্ন করার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন যে, দেশের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা সব রাজনৈতিক দলের জন্যই একটি বড় নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়াটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই সম্পন্ন করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমাদানের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ জানান যে, তাঁদের মনোনীত প্রার্থী অলি আহমদের পক্ষে পেশ করা এই গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়নপত্রে জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির শফিকুর রহমান নিজে প্রস্তাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া এনসিপির পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ আল-আমিন সমর্থক হিসেবে এই কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন যে দেশের বর্তমান সংসদীয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একজন অভিজ্ঞ এবং পরীক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপতি পদে দাঁড় করানোর মাধ্যমে তাঁরা একটি অর্থবহ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
প্রার্থী অলি আহমদের রাজনৈতিক দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রশংসা করে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও দাবি করেন যে, যদি দেশের বর্তমান সংসদ সদস্যরা কোনো ধরনের অদৃশ্য চাপ বা দলীয় সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেতেন, তবে তাঁদের সমর্থিত প্রার্থী এই নির্বাচনে অনায়াসেই বিজয়ী হতে পারতেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য হলো সঠিক ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা, যার অনুপস্থিতি প্রায়শই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করে এই জোট। দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদ তথা রাষ্ট্রপতির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ আসনে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ টিকিয়ে রাখতেই তাঁরা এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সব মিলিয়ে সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াতের এই কঠোর অবস্থান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটগত তৎপরতা দেশের রাজনৈতিক ময়দানকে আগামী দিনে আরও বেশি উত্তপ্ত ও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত