জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার
জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত মৎস্য খাতের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান ও গতিশীল করতে দেশব্যাপী উদযাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ। এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বাইরে মফস্বল অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এই বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সম্প্রতি রাজধানীতে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের মৎস্যচাষি এবং এই খাতের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
চলতি বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। এই প্রেরণাদায়ী স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ পনেরো দিনব্যাপী সারা দেশে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচি পালিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পাক্ষিক কর্মসূচির শুভ সূচনা ঘোষণা করবেন। দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ আমিষের জোগান নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই খাতের অবদানকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই মূলত সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ মৎস্য চাষ ও সংরক্ষণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারেন।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মৎস্য খাতে অসামান্য ও অনুকরণীয় অবদান রাখা সফল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তুলে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য উৎপাদন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন, খাতের সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ মোট তেরোটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে চৌদ্দ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় মৎস্য পদক অর্থাৎ স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেবল বিজয়ীদেরই সম্মানিত করবে না, বরং দেশের অন্যান্য উদ্যোক্তা ও চাষিদেরও মৎস্য খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করবে। দেশের আমিষের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত মাছ কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা যায়, সে বিষয়েও পদকপ্রাপ্তরা অনুপ্রেরণা জোগাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পনেরো দিনব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সুধী সমাবেশ, বিশেষ সেমিনার ও তথ্যবহুল মৎস্য মেলার আয়োজন করা হবে। তাছাড়া তৃণমূলের সফল মৎস্যচাষিদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান, বিভিন্ন জলাশয়ে ও পুকুরে পোনামাছ অবমুক্তকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক মাছ চাষের পদ্ধতি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপদ মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সুরক্ষার নানা দিক তুলে ধরতে ব্যাপক গণসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক মৎস্যচাষে উদ্বুদ্ধ করতে এই পাক্ষিকের কর্মসূচিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। মন্ত্রী বলেন যে বাংলাদেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষা, জনগণের সুষম পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ জনপদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য অবদান রেখে চলেছে। বর্তমান সরকার এই খাতকে আরও বেশি আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং রপ্তানিমুখী করে গড়ে তোলার জন্য নানামুখী ও যুগোপযোগী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে সরকার মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেবে।
উল্লেখ্য যে, উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত থেকে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের জাতীয় মৎস্য পক্ষ দেশবাসীর কাছে মৎস্য খাতের অপার সম্ভাবনার দ্বার আরও উন্মোচন করবে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এই মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা দেশের মৎস্য শিল্পের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত