এনজো ফার্নান্দেজকে নিয়ে চেলসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার
এনজো ফার্নান্দেজকে নিয়ে চেলসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইউরোপীয় ফুটবলের গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময়সীমা যেমন যেমন শেষের দিকে গড়িয়ে আসছে, ঠিক তেমনি ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর অন্দরমহলে উত্তেজনার পারদ তরতর করে উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। বর্তমান দলবদলের বাজারে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী তারকা মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ এবং তারকা ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের সম্ভাব্য দলবদলকে কেন্দ্র করে কম নাটকীয়তা তৈরি হয়নি। তবে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম প্রভাবশালী ক্লাব চেলসি। নতুন ফুটবল মৌসুমের মূল প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই দলবদলের বাজারের এই সমস্ত টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তার চিরতরে অবসান ঘটাতে চায় স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের কর্তাব্যক্তিরা। আর সেই লক্ষ্যেই ইংলিশ পরাশক্তি ম্যানচেস্টার সিটির কাছে এনজোকে দলে ভেড়ানোর সুনির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত এবং কঠোর একটি সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে ব্লুজরা।
বিশিষ্ট ক্রীড়া মাধ্যম স্কাই স্পোর্টসের প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, অদম্য প্রতিভাবান এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে নিজেদের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে ম্যানচেস্টার সিটিকে আগামী শুক্রবার স্থানীয় সময় ঠিক বিকেল পাঁচটার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ১২ কোটি পাউন্ডের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিতে হবে। চেলসি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ক্লাবের পক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়া এই নির্দিষ্ট সময়সীমা যদি কোনো কারণে পার হয়ে যায়, তবে চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলের এই উইন্ডোতে কোনো অবস্থাতেই এনজো ফার্নান্দেজকে অন্য কোনো ক্লাবে ছাড়বে না তারা। ইতিমধ্যেই দলবদলের এই কঠোর শর্ত ও ডেডলাইনের কথা ম্যানচেস্টার সিটির নীতিনির্ধারক মহল এবং স্বয়ং খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত এজেন্ট উভয় পক্ষকেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে ম্যানসিটির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
চেলসির বর্তমান কোচ জাবি আলোন্সো তাঁর আসন্ন মৌসুমের কৌশলগত মধ্যমাঠের পরিকল্পনায় এই আর্জেন্টাইন তারকাকে অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছেন। যদিও বিগত মৌসুমের একেবারে শেষ ভাগে এসে এনজো ফার্নান্দেজের কিছু বিতর্কিত মন্তব্য এবং স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য দলবদলের আগ্রহ ফুটবল বিশ্বে বেশ ভালোই শোরগোল ফেলেছিল। যার জেরে ক্লাব অভ্যন্তরীণ শাস্তির মুখে পড়ে তাঁকে দুই ম্যাচের জন্য নির্বাসনের মুখোমুখিও হতে হয়েছিল। তবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট এবং কোচিং স্টাফরা অতীতের সমস্ত তিক্ততা ও বিতর্ক পেছনে ফেলে দলীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, দলের মাঝমাঠের শক্তি বহুগুণ বাড়াতে এই বিশ্বজয়ী তারকাকে সাদরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ম্যানেজমেন্টের সুনির্দিষ্ট যুক্তি হলো, বর্তমান ট্রান্সফার মার্কেটে অন্যান্য খেলোয়াড়দের যে চড়া মূল্য ধরা হচ্ছে, তার তুলনায় এনজোর এই মূল্য পুরোপুরি যুক্তিসংগত।
ম্যানচেস্টার সিটি ইতিপূর্বে অন্য ফুটবলারদের পেছনে যেভাবে জলের মতো অর্থ খরচ করেছে, তার তুলনামূলক হিসাবও তুলে ধরেছে চেলসি ম্যানেজমেন্ট। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সিটি অ্যান্ডারসনের জন্য প্রায় এগারো কোটি ষাট লাখ পাউন্ড এবং তারকা ডিফেন্ডার সান্দ্রো টোনালির জন্য এক বিরাট অঙ্কের অর্থ অর্থাৎ প্রায় দশ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে। সেই সমস্ত আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের কথা মাথায় রাখলে একজন পরীক্ষিত ও প্রমাণিত বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডারের জন্য মাত্র বারো কোটি পাউন্ড দাবি করাটাকে মোটেই কোনো আকাশকুসুম কল্পনা বা বাড়াবাড়ি বলে মনে করছে না চেলসি কতৃপক্ষ। এদিকে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান কোচ পেপ গার্দিওলা কিংবা তাদের ম্যানেজমেন্টের কাছে চুক্তির এই বিপুল অঙ্কটি বেশ ভারী বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ফলস্বরূপ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ না করে বরং দরকষাকষির মাধ্যমে ট্রান্সফারের দাম কিছুটা কমিয়ে আনার জন্য সিটি কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান স্কোয়াডে মাঝমাঠের বিন্যাস এবং কৌশলগত অঙ্ক বেশ জটিল রূপ ধারণ করেছে। ক্লাবটির বর্তমান কোচ এনজো মারেস্কার অন্যতম প্রধান এবং অবশ্য পালনীয় লক্ষ্য হলো দলে একজন বিশ্বমানের মিডফিল্ডারকে যুক্ত করা। কারণ দলের দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষিত মিডফিল্ডার রড্রি এবং টিজানি রেইন্ডার্সের ইতিহাদ স্টেডিয়াম ছেড়ে ভিন্ন কোনো ক্লাবে পাড়ি জমানোর প্রবল সম্ভাবনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। মাঝমাঠের এই সম্ভাব্য শূন্যতা পূরণ করতে এবং দলের সামগ্রিক ভারসাম্য ও শক্তি পুরোপুরি অটুট রাখতে তরুণ তুর্কি এনজো ফার্নান্দেজকে দলে ভেড়ানোটা সিটির ম্যানেজমেন্টের কাছেও অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এনজো ফার্নান্দেজ হয়তো ঠিক নিখুঁতভাবে রড্রির বিকল্প হয়ে উঠতে পারবেন না, তবে তাঁর খেলায় যে অনন্য অদম্য জেদ, ক্ষিপ্রতা ও তীব্র লড়াই করার মানসিকতা রয়েছে, তা যেকোনো বড় দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হিসেবে কাজ করতে পারে।
যদি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত শর্ত ও কাঙ্ক্ষিত মূল্যে এই বহুল আলোচিত দলবদল সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে কোচ জাবি আলোন্সোর হাতে মিডফিল্ড সাজানোর জন্য যথেষ্ট মানসম্মত বিকল্প খেলোয়াড় মজুত থাকবে। বর্তমান স্কোয়াডে ইতিমধ্যেই মইসেস কাইসেডো, রোমিও লাভিয়া, জর্ডন হেন্ডারসন, ডারিও এসুগো, ভ্যালেন্টিন বার্কো এবং দলের নির্ভরযোগ্য অধিনায়ক রিস জেমসের মতো তারকারা ফাঁকা জায়গাগুলো দারুণভাবে সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। এর আগে অবশ্য বোর্নমাউথের প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার অ্যালেক্স স্কটকে নিজেদের তাঁবুতে টানতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি পাউন্ডের একটি লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল চেলসি, যা পরবর্তীতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত যদি কোনো কারণে এই দলবদল না হয় এবং এনজো ফার্নান্দেজ শেষ পর্যন্ত স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থেকে যান, তবে আদতে চেলসি দলই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিগত প্রতিযোগিতামূলক মৌসুমে এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের পা থেকেই দলটির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি গোল এসেছে, যা দলের আক্রমণভাগকে দারুণ ধারালো করেছিল। দলের প্রধান স্ট্রাইকার জোয়াও পেড্রো কুড়িটি গোল করে শীর্ষে থাকলেও এনজোর গোল করার এই ঈর্ষণীয় পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে মাঝমাঠে থেকেও তিনি দলের জন্য কতোটা ভয়ঙ্কর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত