ছয় মাসে ব্যক্তি নয়, জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্রের বার্তা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার
ছয় মাসে ব্যক্তি নয়, জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্রের বার্তা

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া দলটির সামনে শুরু থেকেই ছিল একদিকে পুরোনো ব্যবস্থার জটিলতা কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চাপ। রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে সরকার এই সময়ে বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে, তা নিয়ে মূল্যায়ন ও বিতর্কও রয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর কেটে গেছে ১৮০ দিন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়কে তারা কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে না; বরং রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি, জনকল্যাণ এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে বিবেচনা করছে। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন অর্জন ও উদ্যোগ তুলে ধরার কথা রয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্টদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি ব্যবস্থা, প্রশাসন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সংকট ছিল। ফলে নতুন সরকারকে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক গতিতে এগোনোর আগে কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সংযম আনার উদ্যোগকে তারা অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে।

এই সময়ের অন্যতম আলোচিত দিক হলো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা। সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি প্রদর্শনের প্রচলন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ে মিতব্যয়িতার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং গাড়ির জ্বালানি, চালক ও বাসভবনের কর্মীদের ব্যয় নিজে বহন করছেন—এমন তথ্যও সরকারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মাসিক মূল বেতনের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সরকারের মতে, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষের কাছে একটি ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির বার্তা দেওয়া।

জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও নতুন কিছু উদ্যোগের কথা জানিয়েছে সরকার। কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী, প্রবীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিলের উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে। দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তাকে সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

কৃষি খাতে সরকার দাবি করছে, প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত থাকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য কৃষকের আর্থিক চাপ কমানো এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা।

জ্বালানি খাতে অবশ্য সরকারকে তুলনামূলক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবের পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ এবং দ্রুত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নীতিকে বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছে সরকার। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রসীমার গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে ২৬টি ব্লকের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বিনিয়োগ উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের প্রথম ছয় মাসে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগের দৃশ্যমান প্রবাহ না থাকায় এই খাতে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেও সমালোচনা রয়েছে।

বাজার ব্যবস্থাপনাও সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বাজেটে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাজারে এর সুফল কতটা দ্রুত পৌঁছাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাকে তাই সরকারের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পানি ও নদী ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা ও মরুকরণ মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধার, পলি অপসারণ, তীর সংরক্ষণ এবং ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে।

শিক্ষা খাতেও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, ডিজিটাল ক্লাসরুম, ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষক উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগও রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় টিকা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে প্রথম ছয় মাসের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখানো হচ্ছে। পুলিশ সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমকে সরকার আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির পাশাপাশি চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শ্রমবাজার, অবকাঠামো ও কৌশলগত সহযোগিতাকে সামনে রেখে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অবস্থান জোরদারের কয়েকটি উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার, জবাবদিহি ও নৈতিক কূটনীতির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণেও সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’ রূপান্তরের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ তুলে ধরা হবে।

তবে ছয় মাসের সাফল্য বিচার করতে গিয়ে শুধু সরকারি উদ্যোগের তালিকা দেখলেই হবে না। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়েছে, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন। দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি সরবরাহ, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান—এসব ক্ষেত্রে জনগণ দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, প্রথম ছয় মাসে নির্বাচনী অঙ্গীকারের বড় অংশ বাস্তবায়নের পথে এসেছে। সরকারের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনিক কাঠামো প্রস্তুত করতে যে সময় লেগেছে, পরবর্তী ছয় মাসে তার সুফল আরও স্পষ্ট হবে। এখন মূল লক্ষ্য হবে পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জনগণের কাছে তার ফল পৌঁছে দেওয়া।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের প্রথম ছয় মাস ছিল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব রাষ্ট্র পরিচালনায় যাওয়ার সময়। ব্যক্তি বা দলের ভাবমূর্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারকে জনগণের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করাই হবে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের মূল মাপকাঠি।

শেষ পর্যন্ত সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মানুষের আস্থা ধরে রাখা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষ চেয়েছে নিরাপদ জীবন, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, সাশ্রয়ী বাজার, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র। প্রথম ছয় মাসে সেই প্রত্যাশা পূরণের যে ভিত্তি তৈরির দাবি সরকার করছে, আগামী সময়েই তার বাস্তব ফল কতটা দৃশ্যমান হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে জনগণের চোখে এই সরকারের প্রথম অধ্যায়ের মূল্যায়ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত