ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর শিবপুর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ বার
ঢাকায় মৃদু ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর শিবপুর

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সোমবার ভোরে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর এলাকায়। কম্পনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার ১৭ আগস্ট ভোর ৫টা ৩২ মিনিটের দিকে ভূকম্পনটি অনুভূত হয়। ভোরের নীরব সময়ে হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই ঘুম থেকে উঠে বিষয়টি টের পান। কেউ কেউ ঘরের আসবাবপত্র বা জানালা-দরজায় হালকা কম্পন অনুভব করেন। তবে ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা কম থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩। ভূমিকম্পের কেন্দ্র বা উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলার শিবপুর এলাকায়। রাজধানী থেকে নরসিংদী তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় ওই অঞ্চলে উৎপন্ন কম মাত্রার ভূকম্পনও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হতে পারে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কম মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশে অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝেমধ্যে ছোট মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয় না। তবে ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও এর উৎপত্তিস্থল, গভীরতা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে দূরত্বের ওপর অনুভূতির মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করে।

সোমবার ভোরের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সরকারি বা বেসরকারি কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একইভাবে কোনো মানুষের আহত বা নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চল বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বসবাস ও কাজ করেন। ফলে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের ঝুঁকির বিষয়টি সবসময়ই আলোচনায় থাকে। বিশেষ করে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুরোনো ভবন এবং নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার অভিযোগ থাকায় বড় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন।

তবে সোমবারের ভূমিকম্পকে ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ৩ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত খুবই হালকা কম্পন সৃষ্টি করে এবং অনেক সময় মানুষ এটি অনুভবও করতে পারেন না। কিন্তু জনবহুল এলাকায় ভোরের মতো শান্ত সময়ে সামান্য কম্পনও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

নরসিংদীর শিবপুরে উৎপত্তি হওয়ায় স্থানীয় এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়ে থাকতে পারে। তবে ভূমিকম্পের পরপরই কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা স্থাপনা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে সাধারণত কম্পনের পর আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বিপদের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সবসময় ভূমিকম্পের সময় শান্ত থাকার এবং নিরাপদ অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। ভবনের ভেতরে থাকলে শক্ত টেবিল বা মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নেওয়া, জানালা ও ভারী আসবাব থেকে দূরে থাকা এবং কম্পন থামার পর নিরাপদভাবে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বহুতল ভবনে অবস্থান করলে ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় ও সম্ভাব্য ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি রয়েছে। নরসিংদীসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অতীতে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ফলে প্রতিটি ভূমিকম্পই বিশেষজ্ঞদের জন্য ভূগর্ভস্থ ভূতাত্ত্বিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সোমবারের ভূমিকম্পের মাত্রা কম হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। ভোরের পর রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল, অফিস-আদালত ও অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের আতঙ্ক বা জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।

তবে এই ছোট ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা একটি দেশের জন্য প্রস্তুতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট কম্পনে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। তাই ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, উদ্ধারকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প কখন হবে তা নির্ভুলভাবে আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। ফলে পূর্বাভাসের অপেক্ষায় না থেকে প্রস্তুতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ। নগর এলাকার ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাই, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পরিবার পর্যায়ে জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি রাখা বড় দুর্ঘটনার ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ভোরের ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে রাজধানী ও নরসিংদীর মানুষের মধ্যে। কয়েক মুহূর্তের কম্পন থেমে গেলেও এর মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে দেশের ভূমিকম্প প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা। ছোট কম্পনকে আতঙ্কের কারণ না বানিয়ে বরং ভবিষ্যতের বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত