চিকিৎসার কথা বলে গৃহবধূকে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৬ বার
চিকিৎসার কথা বলে গৃহবধূকে ডেকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে এক গৃহবধূকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলায় রাজু নামে আরও এক যুবককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন হলেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি কাশিমনগর এলাকার শিপ্রা বিশ্বাস (৩২) ও অনুপ বিশ্বাস (৩৬)। গত রোববার পাইকগাছার কপিলমুনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী গৃহবধূ খুলনার কয়রা উপজেলার ঘুগরাকাঠি এলাকার বাসিন্দা। তিনি অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য সহায়তা খুঁজছিলেন। এ সময় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে রাজু নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। রাজু নিজেকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজু ওই গৃহবধূকে কয়রা থেকে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসেন। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকের কাছে সেদিন আর যাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়। এরপর তাঁকে তালা ব্রিজ মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বাসায় অবস্থানরত এক নারীর সহযোগিতায় গৃহবধূর খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধজাতীয় কোনো পদার্থ মিশিয়ে দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর রাজু তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর বিষয়টি ওই নারীর কাছে জানালে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে চুপ থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে ওই রাতে রাজুসহ আরও একজন যুবক তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন শুক্রবার সকালে সুযোগ বুঝে ওই গৃহবধূ বাসা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় তিনি তালা থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দীক জানান, অচেতন করে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক ও এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা রেকর্ডের পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে পাইকগাছার কপিলমুনি এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য সম্ভাব্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে।

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁর গোপনীয়তা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে চিকিৎসা প্রতিবেদন, পারিপার্শ্বিক তথ্য, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। তবে গুরুতর এই অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসার প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে একজন অসুস্থ নারীকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর এমন অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় কোনো ব্যক্তি যাতে প্রতারণা, নিপীড়ন বা সহিংসতার শিকার না হন, সে বিষয়ে পরিচিতজনের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com