প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে সমাবেশের মধ্য দিয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। সকাল ৭টায় শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে তিনি এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। বৈঠকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে বড় সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর রাজধানী থেকে যাত্রা করে লংমার্চের বহর নারায়ণগঞ্জের মদনপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করবে। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জনগণ লংমার্চের বহরকে অভ্যর্থনা জানাবেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়েও স্থানীয়ভাবে অভ্যর্থনার আয়োজন থাকবে এবং সেখান থেকে সাধারণ মানুষ লংমার্চের সঙ্গে যুক্ত হবেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রস্তুতিমূলক সভায় ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে’ ঘোষিত এই কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, লংমার্চকে শুধু একটি দলীয় কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চকে জাতীয় সিরিজ কর্মসূচি হিসেবে নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরদিন ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সংসদ ও রাজপথে একসঙ্গে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে আবারও জুলাই আন্দোলনের মতো পরিস্থিতির পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার জুলাইয়ের ঘটনাকে মুছে দিতে চায়। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো একটি রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি জনগণের বিষয়।
বক্তব্যে বিএনপিরও সমালোচনা করেন তিনি। হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে বেঈমানি করছে। জুলাইয়ের ঘটনাকে কোনোভাবেই মুছে দেওয়া বা থামিয়ে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে এসব বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক ও জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সভায় কথা বলেন ১১ দলীয় ঐক্যের এই নেতা। তিনি দাবি করেন, কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না এবং দেশের সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এসব পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হচ্ছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিকে সামনে রেখে ঘোষিত কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাহফুজুর রহমান।
এ ছাড়া সভায় দলের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতা, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো. কামাল হোসাইন এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম এবং এফডিইবির কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুস সাত্তার শাহ উপস্থিত ছিলেন। দলের প্রচার, মিডিয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিভাগের দায়িত্বশীল, ছাত্রপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতাকর্মীরাও সভায় অংশ নেন।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাত্রাপথের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও অভ্যর্থনার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচিতে কতসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন, তা আয়োজকদের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করছে; তবে হামিদুর রহমান আযাদ শাপলা চত্বরে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি লংমার্চের যাত্রাপথেও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আয়োজকরা বলছেন, এতে কর্মসূচিটি ঢাকার কেন্দ্রিক না থেকে পথের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করবে।
৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে বলে বৈঠক থেকে জানানো হয়েছে। লংমার্চের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, জনসম্পৃক্ততা এবং কর্মসূচির সমন্বয় নিয়ে দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শাপলা চত্বরের সমাবেশ দিয়ে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চের। ফলে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন নজর থাকবে ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং শেষ পর্যন্ত এতে কতটা জনসম্পৃক্ততা তৈরি হয়, সেদিকে।