রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারের সমালোচনায় আযাদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সরকারের সমালোচনায় আযাদ

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন না করে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা রাজনৈতিক বাস্তবতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে হামিদুর রহমান আযাদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্বাচনী অংশগ্রহণকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার পরিবর্তে এর অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক বার্তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানান।

হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং এ অংশগ্রহণের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। তিনি দাবি করেন, সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে বিরোধী দলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেওয়া শপথ আর কার্যকর থাকে না।

এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর যুক্তি, যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে বিরোধী দলের নেওয়া শপথের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেওয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে—সেটিও ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। কারণ, তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্যে মূলত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক কাঠামোর বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। তাঁর মতে, কোনো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বিচ্ছিন্নভাবে মূল্যায়ন করলে সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা স্পষ্ট হয় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে তিনি সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

বিবৃতিতে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল সরকারের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। একই সঙ্গে তিনি এটিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের সামনে স্পষ্ট করার সুযোগ নিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে, তা বিরোধী দল আগে থেকেই জানত। এরপরও তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। তাঁর মতে, এই অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল নির্বাচনী ফলাফল অর্জন নয়; বরং জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে নিজেদের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করা।

হামিদুর রহমান আযাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের জনগণের সামনে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে তিনি শুধু একটি সাংবিধানিক পদে নির্বাচন হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে রাজনৈতিক অবস্থান জানানোর একটি মাধ্যম হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেও কোনো রাজনৈতিক দল একই সঙ্গে সংস্কারের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অবস্থান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বানও জানিয়েছেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা, মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

তিনি সরকারের প্রতি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্যে গণভোটের রায় ও সংবিধান সংস্কারের বিষয় দুটি রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে কোনো সরকারই দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে না। তাঁর মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করা জরুরি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য-বিতর্কে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সংসদীয় ব্যবস্থা, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংবিধান সংস্কারের মতো বিষয়গুলো সামনে এসেছে। হামিদুর রহমান আযাদের বিবৃতিতেও এসব বিষয় পরোক্ষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মূলত রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংস্কারের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলেছেন।

বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন, সেটিও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হতে পারে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, রাষ্ট্রীয় কোনো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পক্ষের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে একই ধরনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত।

তবে হামিদুর রহমান আযাদের বক্তব্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্লেষণ হিসেবে এসেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংবিধান সংস্কার এবং বিরোধী দলের শপথের বৈধতা নিয়ে তাঁর উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে পৃথক কোনো বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি আবারও সরকারের প্রতি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘটনাকে কেবল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখলে এর বৃহত্তর বার্তা অনুধাবন করা সম্ভব হবে না। বরং জনগণের অধিকার, গণভোটের রায় এবং সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও অংশগ্রহণকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, হামিদুর রহমান আযাদের এই বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে সরকার কীভাবে মূল্যায়ন করবে এবং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত কতটা গুরুত্ব পাবে—এখন সেই প্রশ্নই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত