ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে মন্ত্রী আরিফুল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার
ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে মন্ত্রী আরিফুল

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ আয়োজন ‘৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬’-এ যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শ্রমবাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে তার।

শুক্রবার ২৮ আগস্ট দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে ‘৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাগত বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই কনভেনশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সম্মেলনের প্রথম দিন ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে ইউনিভার্সাল হিলটন কনভেনশন হলে উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আয়োজক হোস্ট কমিটি ও নির্বাহী কমিটির নেতারাও বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ফোবানা কনভেনশন দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা এ ধরনের আয়োজনে একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান। প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে এবারের কনভেনশনে শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে। প্রবাসী কল্যাণ, বিদেশের শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বৈধ অভিবাসন এবং বাংলাদেশ ও প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তির বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাদের কল্যাণ ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি সরকারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় বসবাস করছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখে। ফলে প্রবাসীদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এবং তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ফোবানা কনভেনশনের দ্বিতীয় দিন ৫ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়রের সঙ্গে একটি বিশেষ বিজনেস লাঞ্চে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রীর। ব্যবসায়ী নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই পর্বে ব্যবসা-বাণিজ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রবাসী উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা এবং সক্ষমতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

একই দিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর আমেরিকা ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ফোবানা নেতৃবৃন্দ এবং প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশ নেবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের গুরুত্ব শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিবেশে বসবাসের মধ্যেও নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা অনেক প্রবাসী পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের বৃহৎ আয়োজন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রবাসীদের কল্যাণ এবং শ্রমবাজারসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন এবং বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রবাসী কল্যাণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশের শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরির কোনো বিকল্প নেই। নতুন নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে বের করার পাশাপাশি প্রচলিত শ্রমবাজারগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রবাসী কমিউনিটি, ব্যবসায়ী এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সফরের শুরুতে মন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক কল্যাণ, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শ্রমবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত কয়েকটি সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ অনেক সময় বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে সহায়ক হয়। পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, শ্রমসংক্রান্ত সমস্যা, বিনিয়োগ এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রবাসীদের প্রত্যাশা ও অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

এবারের ফোবানা কনভেনশন তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক মহাসম্মেলন হিসেবে নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বাংলাদেশিদের মতামত ও অভিজ্ঞতা দেশের প্রবাসী নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সংযোগ, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে বন্ধন তৈরি হয়েছে, ফোবানার মতো আয়োজন তা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও প্রবাসী সমাজের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব রয়েছে।

মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এই সফরে প্রবাসীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের প্রত্যাশা, তাদের কল্যাণে সরকারি সেবাগুলো আরও সহজলভ্য ও কার্যকর হবে এবং বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিন দিনব্যাপী কনভেনশন শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফোবানা কনভেনশনে সরকারি পর্যায়ের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে। সংস্কৃতি, সামাজিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসী কল্যাণের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই আয়োজন উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত