দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার
দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশকে পুনর্গঠন ও পরিবর্তনের কাজে তরুণ সমাজসহ দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ একসঙ্গে পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে কোনো শক্তিই সেই উদ্যোগকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের দায়িত্ব শুধু সরকারের একার নয়। নাগরিকদেরও নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, স্কাউট সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দেশের পরিবর্তনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে স্কাউটের সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদস্যসংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে সেই উদ্যোগকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।” তাঁর বক্তব্যে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের দৈনন্দিন আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপরও গুরুত্ব উঠে আসে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গুর সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব না হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ থাকলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।

ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এডিস মশার বংশবিস্তারের পরিবেশ তৈরির বিষয়টি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, পরিত্যক্ত পাত্র, ভাঙা জিনিসপত্র, বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা কিংবা এমন কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা জন্ম নিতে পারে। তাই শুধু বড় ধরনের সরকারি কর্মসূচি নয়, প্রতিটি পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগও ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো কঠিন কাজ নয়। প্রত্যেকে যদি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা নিজের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল পরিষ্কার করার জন্য ব্যয় করেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব। নিয়মিতভাবে এই অভ্যাস গড়ে উঠলে একদিকে যেমন মশার বংশবিস্তার কমবে, অন্যদিকে পরিবেশও পরিচ্ছন্ন থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলেন, তাদেরও নিরুৎসাহিত করতে হবে। সমাজের প্রত্যেক মানুষ যদি নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করেন, তাহলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও কার্যকর হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, মানুষ অনেক সময় নিজের বাড়ি বা আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলেও জনসমাগমস্থল কিংবা রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রাখে। একটি টিস্যু বা পানির বোতল যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়াকে অনেকে তুচ্ছ বিষয় মনে করতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের ছোট ছোট অসচেতন আচরণ যখন অনেক মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা বড় ধরনের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলে সেখান থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। একজন ব্যক্তি হয়তো মনে করতে পারেন, নিজের বাড়ি থেকে দূরের কোনো স্থানে জমে থাকা ময়লার কারণে তাঁর কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু সেই পরিবেশে তৈরি হওয়া রোগের প্রভাব শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সদস্য, স্বজন কিংবা প্রিয়জনের ওপরও পড়তে পারে। তাই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশের মানুষের সুস্থতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের এই উদ্যোগকে তিনি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু মশা নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি নয়; বরং নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি এবং সমাজকে আরও সচেতন করে তোলার একটি সুযোগ।

তরুণ সমাজের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের তরুণরা পরিবর্তন ঘটাতে পারে—এটি তারা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে। তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, তরুণ সমাজ সেই সময় নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবং পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

এবার একই শক্তিকে রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি সত্যিকার অর্থে দেশকে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এজন্য শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষকে নিজের দেশ ও সমাজের ভবিষ্যতের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ দেশ গড়ে উঠলে তার সুফল ভোগ করবে বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও। তাই রাষ্ট্রের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিক আচরণ, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গেও যুক্ত করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের তিন মাসের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে মূলত সম্মিলিত নাগরিক উদ্যোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে, কিন্তু সাধারণ মানুষ নিজেদের দায়িত্ব পালন না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা, অন্যদের সচেতন করা এবং নিজের পরিবার ও সমাজকে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার তাদের সামনে রাষ্ট্র ও দেশকে পুনর্গঠনের বড় দায়িত্ব রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের প্রত্যাশাও উঠে এসেছে। তাঁর আহ্বানের মূল বার্তা হলো—পরিবর্তন কেবল বড় কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসে না; বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট দায়িত্বশীল কাজ থেকেই সেই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হয়। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষ যদি সেই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়, তাহলে বাংলাদেশকে আরও সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথ আরও শক্তিশালী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত