প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে এ কর্মসূচি চলবে। কর্মসূচির আওতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর এবং অধীনস্থ উপজেলা, থানা ও পৌর ইউনিটগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যুবদলের ঘোষিত কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে আরও সচেতন করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ঝুঁকি কমাতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু প্রচার-প্রচারণার মধ্যে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হবে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় জেলা ও মহানগর ইউনিটগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো এসব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবে। ফলে কর্মসূচিটি দলীয় সংগঠনের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাড়ির আশপাশ, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা বিভিন্ন ধরনের আবর্জনায় পানি জমে থাকলে তা মশার বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এ কারণে শুধু নগর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যুবদলের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে এই সচেতনতার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি উপজেলা, থানা ও পৌর ইউনিটগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে কর্মসূচিটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে আগে থেকেই চলমান পরিচ্ছন্নতা বা সচেতনতামূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুবদলের কর্মসূচিকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে সামাজিকভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তাটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মানুষের আচরণগত সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ভেতর ও বাইরে অপ্রয়োজনীয় পানি জমতে না দেওয়া, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার বিস্তার সম্পর্কে সতর্ক থাকা—এসব বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতা প্রয়োজন। অনেক সময় বড় ধরনের কোনো উদ্যোগের চেয়ে প্রতিটি পরিবার ও এলাকার মানুষের ছোট ছোট সচেতন পদক্ষেপই মশার প্রজননস্থল কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যুবদলের কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো একটি রোগের বিস্তার মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন হয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমন্বিত উদ্যোগকে কার্যকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি জেলা ও মহানগরসহ অধীনস্থ ইউনিটগুলোর প্রতি এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাত দিনের এ কর্মসূচি ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। কর্মসূচির সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউনিটগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এসব কার্যক্রমের ধরন ও পরিসর নির্ধারণ করা হবে।
জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় সচেতনতা কার্যক্রমকে নিয়মিত ও ধারাবাহিক রাখা জরুরি। একবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেই দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি পুরোপুরি কমে যায় না। নিয়মিতভাবে কোথাও পানি জমছে কি না, মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে কি না এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন আছে কি না—এসব বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। ফলে যুবদলের ঘোষিত সাত দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও যদি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার চর্চা অব্যাহত থাকে, তাহলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তরুণ সমাজকে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে জনসচেতনতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে তরুণরা মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে পারেন। পাশাপাশি নিজেদের বসতবাড়ি, মহল্লা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রেও তারা অন্যদের উৎসাহিত করতে পারেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ওপর নির্ভর করে না। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগই এ ধরনের জনস্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর হতে পারে। সেই বিবেচনায় যুবদলের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা তৈরির একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার হবে। বিশেষ করে তরুণদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তোলা গেলে শুধু সাত দিনের কর্মসূচিই নয়, ভবিষ্যতেও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো সম্ভব হবে। এখন এ কর্মসূচির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় এবং সাধারণ মানুষকে কতটা সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয় তার ওপর।