জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। এ সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু নিরাপত্তা এবং বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়গুলো সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রাথমিক তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ কর্মসূচির বিস্তারিত সূচি পর্যায়ক্রমে জানানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা নিউইয়র্কে সমবেত হন। ফলে এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়। অধিবেশনের মূল কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যে পার্শ্ববৈঠক, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের জন্যও এ ধরনের সফর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় কাটাবেন। জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলাদেশের ভিশন বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন। বিশেষ করে নতুন বাংলাদেশকে কীভাবে এগিয়ে নিতে চান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক একটি মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে কোন কোন দেশের নেতার সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সাইডলাইনে অনেক বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়ও কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বশান্তি ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং টেকসই সমাধানের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে প্রধানমন্ত্রীর সামনে।

দারিদ্র্য দূরীকরণও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অন্যতম অগ্রাধিকার দারিদ্র্য কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল যাতে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের অংশগ্রহণ ও আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়ে, সে বিষয়ে সরকারের নীতিগত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা এবং অন্যান্য জলবায়ুজনিত ঝুঁকি দেশের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। তাই জলবায়ু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি দেশের বক্তব্য শুধু আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মাধ্যমে একটি দেশ তার জাতীয় স্বার্থ, পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট করতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের সুযোগও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশন আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে। নতুন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের কাঠামো সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ধারণা দেওয়ার সুযোগ থাকবে এ সফরে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং একটি স্থিতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন।

নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির বিস্তারিত সূচি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের তালিকাও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবর্তিত হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মতো বড় বহুপক্ষীয় আয়োজনে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈঠক নির্ধারণ করা হয়। ফলে সফরের শেষ পর্যায়েও নতুন বৈঠক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সব মিলিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জলবায়ু নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান প্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা ও সমর্থন জোরদারের সম্ভাবনাও রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সফর তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ও উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হয়ে উঠতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত