এমপির নম্বর ক্লোন করে পরিচিতদের কাছে টাকা দাবি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৫ বার
এমপির নম্বর ক্লোন করে পরিচিতদের কাছে টাকা দাবি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তাঁর পরিচিতজনদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সংসদ সদস্যের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারাবাহিকভাবে বার্তা পাঠানো হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কয়েকজন সরাসরি সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রতারণার ঘটনাটি সামনে আসে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংসদ সদস্য নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছেন। তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে পাঠানো কোনো বার্তার ভিত্তিতে অর্থ লেনদেন না করতে পরিচিতজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নম্বরটি প্রতারকদের কবল থেকে উদ্ধারের চেষ্টা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলুর অফিশিয়াল মোবাইল নম্বর ক্লোন করার পর প্রতারকেরা তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ শুরু করে। সেখানে সংসদ সদস্যের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাওয়া হয়। হঠাৎ করে একই নম্বর থেকে অর্থ চেয়ে বার্তা আসায় কয়েকজনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। তাঁরা প্রতারকদের কথায় সাড়া না দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য সরাসরি সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন জাকির হোসেন বাবলু। এরপর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতামূলক পোস্ট দেন। সেখানে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে পাঠানো অর্থ চাওয়ার বার্তায় কাউকে সাড়া না দেওয়ার অনুরোধ জানান। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক প্রতারণার হাত থেকে অনেকেই সতর্ক হওয়ার সুযোগ পান।

সংসদ সদস্যের পরিচিতজনদের মধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরাও ছিলেন বলে জানা গেছে। সাধারণত একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। ফলে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে তাঁর ব্যবহৃত নম্বর থেকেই অর্থ চেয়ে বার্তা পাঠানো হলে সেটিকে অনেকের কাছে প্রথমে স্বাভাবিক বলেই মনে হতে পারে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই প্রতারকেরা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জাকির হোসেন বাবলু জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচিত কয়েকজন তাঁকে ফোন করে জানান যে তাঁর নম্বর থেকে তাঁদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। তখনই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে খোঁজ নিয়ে নম্বর ক্লোন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নম্বরটি প্রতারকদের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

মোবাইল নম্বর ক্লোন বা পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনায় সাধারণত প্রতারকেরা ভুক্তভোগীর পরিচিতি ও যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। পরিচিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বার্তা পাঠিয়ে জরুরি প্রয়োজন, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজনের কথা জানানো হতে পারে। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করাই এ ধরনের প্রতারণার অন্যতম কৌশল। ফলে পরিচিত নম্বর বা পরিচিত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে কোনো অর্থের অনুরোধ এলেও তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ।

এই ঘটনায়ও কয়েকজন বার্তার সত্যতা যাচাই না করে অর্থ পাঠানোর পরিবর্তে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। তাঁদের এই সতর্কতার কারণেই সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অন্য পরিচিতজনদেরও সতর্ক করা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে অর্থ চেয়ে কোনো বার্তা এলে প্রেরকের পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার কৌশলও পরিবর্তিত হচ্ছে। কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, কখনো মোবাইল নম্বর, আবার কখনো পরিচিত প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা আরও সংবেদনশীল। একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের যোগাযোগ থাকায় তাঁর নামে পাঠানো একটি বার্তা দ্রুত অনেকের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতির কারণে অনেকে বার্তার সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সেটিকে বিশ্বাস করার ঝুঁকিতে থাকেন। এ কারণে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ শুধু আর্থিক নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক আস্থার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জাকির হোসেন বাবলুর নম্বর ক্লোন করে অর্থ দাবির ঘটনাটি সামনে আসার পর তাঁর পরিচিতদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সতর্কতামূলক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি আরও মানুষের নজরে এসেছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো নম্বরটি কীভাবে ক্লোন করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করা। একই সঙ্গে প্রতারকেরা যেসব ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার পরিধি নির্ধারণ করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর ও ডিজিটাল যোগাযোগসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাও প্রয়োজন হতে পারে। প্রতারণার ব্যবহৃত নম্বর, বার্তার তথ্য, যোগাযোগের সময় এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে ঘটনার উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্র সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এদিকে সংসদ সদস্যের পরিচিতদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর নামে বা ব্যবহৃত নম্বর থেকে অর্থ চেয়ে কোনো বার্তা এলে সরাসরি ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি ভিত্তিতে টাকা পাঠাতে বলা হলে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য চাওয়া হলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবির অভিযোগটি তাই শুধু একটি ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার একটি উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ যত সহজ হচ্ছে, ততই ব্যক্তিগত পরিচয় ও বিশ্বাসকে ব্যবহার করে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিচিত নম্বর, পরিচিত নাম কিংবা পরিচিত ব্যক্তির ছবি দেখেই কোনো আর্থিক অনুরোধ সত্য বলে ধরে না নিয়ে বিকল্প মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করাই নিরাপদ।

সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নম্বর উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় সামনে এলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এর মধ্যে তাঁর পরিচিতজন ও সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সতর্ক থাকা এবং যাচাই ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেনে না জড়ানো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত