তারেক-শাহবাজের প্রথম বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২১ বার
তারেক-শাহবাজের প্রথম বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। আলোচনায় নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান তিনি এবং জাতিসংঘের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথা জানান।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। দুই দেশের সরকারি বক্তব্যে সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া ও সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই নেতার আলোচনায় অর্থনৈতিক ও জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা। এসব খাতের বিস্তৃত পরিসর ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়েও আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তুলে ধরে।

বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার দুটি জনবহুল দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবার আদান-প্রদান বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে উভয় দেশের বেসরকারি খাতও নতুন বাজার ও অংশীদারত্বের সুযোগ পেতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাণিজ্যিক সুবিধা এবং কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যোগাযোগের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ভৌগোলিকভাবে দুই দেশ সরাসরি সীমান্ত ভাগ না করলেও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা, বিমান ও সমুদ্রপথ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামোর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক যুক্ত। ফলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ভবিষ্যতে ব্যবসা, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শিক্ষা ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার রয়েছে। শিক্ষা খাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একইভাবে পর্যটন খাতে দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক ভ্রমণ বাড়লে সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন তাঁরা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মতো একটি বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক মঞ্চের ফাঁকে দুই দেশের সরকারপ্রধানের এই বৈঠক কূটনৈতিক যোগাযোগের দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘে একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেওয়ায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও নিউইয়র্কের এই বৈঠক দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বৈঠকটি ছিল তারেক রহমান ও শাহবাজ শরিফের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎ। ফলে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট নতুন চুক্তি বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং দুই দেশের সরকারি বক্তব্যে সম্পর্কের ইতিবাচক গতি ধরে রাখা, সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো এবং নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। এই সফরে তিনি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। ২৪ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নানা মাত্রা রয়েছে। তবে বর্তমান বৈঠকের সরকারি বক্তব্যে অতীতের বিতর্কের পরিবর্তে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়গুলো সামনে আসায় ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে নিয়মিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক, আলোচনা ও সহযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব বিষয় সরাসরি দুই দেশের জনগণের জীবন ও অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলোতে বাস্তব অগ্রগতি হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুফল সাধারণ মানুষের পর্যায়েও পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রবাসী ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে শিক্ষা, পর্যটন, ব্যবসা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়লে পারস্পরিক পরিচিতি ও বোঝাপড়া আরও গভীর হতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়লে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে বৈঠকে যে সহযোগিতার অঙ্গীকার করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ওপর। রাজনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়নের ইচ্ছা প্রকাশের পাশাপাশি বাণিজ্যিক বাধা কমানো, যোগাযোগ সহজ করা, শিক্ষা ও পর্যটন সহযোগিতার কাঠামো তৈরি এবং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ধরে রাখার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

নিউইয়র্কে তারেক রহমান ও শাহবাজ শরিফের প্রথম বৈঠক তাই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন পর্ব হিসেবে সামনে এসেছে। বৈঠকে দুই পক্ষই সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা জানিয়েছে। এখন সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা কতটা কার্যকর সহযোগিতায় রূপ নেয়, সেটিই হবে পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত