প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাকা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
১৪ আগস্ট আল্লামা সাঈদী রহিমাহুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একজন ধর্মীয় নেতা লিখেছেন, “আল্লামা সাঈদী রহিমাহুল্লাহ-র অনন্য খিদমাহ জাতি যুগ যুগ স্মরণ করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কালামের একনিষ্ঠ এই বাণীবাহককে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।”
আল্লামা সাঈদী ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিকভাবে দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
এই দিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, আল্লামা সাঈদী ছিলেন সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানান। একই দিনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ওই রাতে পিজি হাসপাতালে সাঈদীর প্রিজন সেলে চিকিৎসা অবহেলার কারণে তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করেনি এবং শেষ সময়ে পরিবারের সদস্যদের সাঈদীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, মৃত্যুর পর ঢাকায় জানাজা আদায়ের জন্য জনতা সমবেত হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে আহত করে। পরে সাঈদীর গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নিয়ে চোখের জলে তাঁকে শেষ বিদায় জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল্লামা সাঈদীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অসংখ্য ব্যবহারকারী দোয়া ও প্রার্থনা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, তার জীবন ও কর্ম নিয়ে সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অবহিত করা জরুরি। অনেকে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছেন, তিনি আল্লামা সাঈদীকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান দান করুন এবং যারা তার বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছেন তাদের হেদায়েত দিন বা শাস্তি প্রদান করুন।
মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনটি কেবল ধর্মীয় শ্রদ্ধার প্রতীক নয়, একই সঙ্গে চিকিৎসা, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গেও দেশের জনমনে গভীর ভাবনা উস্কে দিয়েছে।