সর্বশেষ :
হাসপাতালে ভর্তি হয়েও হামের টিকা পায়নি অনেক শিশু, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে টাঙ্গাইলে ভাইরাল কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে শোকে ভারী জনপদ সঠিক নীতিসহায়তা পেলে রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কালো তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে আলিবাবা, পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের লক্ষ্য নকআউট নিশ্চিত করা, স্কটল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জব্দে ফরাসউদ্দীনের দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জব্দে ফরাসউদ্দীনের দাবি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল রাখতে পুরোনো এক ধরনের দুর্নীতিবাজ প্রবণতা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা থেকে সাবধানবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দীন। রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ম্যান্থলি ম্যাক্রোইকনমিক ইনসাইটস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দেশে অসংখ্য ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন হয়েছে যা মূলত মুদ্রাসংক্রান্ত ও আর্থিক লেনদেনের অন্ধকার দিক ব্যবহার করে অসামান্য মূলধন সঞ্চয় ও লুটপাটের অনুশীলন চালাচ্ছে। এসব ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি—প্রায় ১০ থেকে ১২ জন—চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের সম্পদ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

ফরাসউদ্দীন সেমিনারে বলেন, এই ১০–১২ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের প্রয়োজন আছে, তবে একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে গণভাবে প্রত্যেকেরই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা মোটেই সমাধান নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “সমস্যা যদি গোষ্ঠিগতভাবে নয়, কেবলমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকজনের মাধ্যমে সংগঠিত হয়, তা হলে নির্বিচারে সবার অ্যাকাউন্ট জব্দ করা উচিত নয়; বরং সুস্পষ্ট প্রমাণ ও বিচারের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পদ বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের কাছে নেওয়া উচিত।” তাঁর ভাষায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না হলে আবার নতুন করে একই অবাধ-অপব্যবহার এবং ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ ধরনের গোষ্ঠীর উত্থান ঘটার আশঙ্কা বজায় থাকবে — ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে রাখা অপরিহার্য।

ওই সেমিনারে অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম। অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি কামরান টি. রহমান ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেছেন যে মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠীর রাজত্ব আর্থিক ও খাদ্য সুরক্ষা ছাড়াও সমগ্র সম্মিলিত অর্থনীতির দুর্বলতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফরাসউদ্দীন বলেন, বাজার পর্যবেক্ষণ, রাজস্ব-তদন্ত ও আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম সঠিকভাবে চালালে এসব ‘অলিগার্ক’ চিহ্নিত করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট কয়েকজনকে টার্গেট করে ব্যাংকিং ও সম্পদ যাচাই করা হলে দ্রুততার সঙ্গে তহবিল উদ্ধার করা সম্ভব এবং সেই তহবিল দেশের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, তৎপরতা চালালে রাজনীতিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও সমান্তরালভাবে তুলতে হবে যাতে প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় থাকে।

সভায় রিজওয়ান রহমান বলেন, কেন বাংলাদেশে এই ধরনের অলিগার্ক তৈরি হলো তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার। তার মতে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা কার্যকর না করা হয়, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অবমূল্যায়ন ও অনিয়ম চলতেই থাকবে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক একীভূতকরণসহ কিছু পদক্ষেপ যে আদৌ দেশের অর্থনীতির জন্য উপকারী তা নিয়ে প্রশ্ন আছে; আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীদের শাসন আরও মজবুত হবে।

বিস্তৃত আলোচনায় উঠে এসেছে, নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ফাঁকগুলোই ক্রমশ সুযোগ দেয় অবৈধ অর্থসঞ্চয়কারীদের। বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগের আড়ালে জালিয়াতি ও পাচার গোপন করা সহজ হয়েছে বলে বক্তারা মন্তব্য করেন। এ কারণে তাদের পরামর্শ ছিল—অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিবেচনা, কর ও আর্থিক তল্লাশির বিধান কড়াকড়ি করা, এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অর্থপাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

ফরাসউদ্দীনের বক্তব্যে মানবিক দিকও স্পষ্ট। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিপর্যয়মোচনে তহবিল সংগ্রহ ও খাদ্য সঞ্চয় করেছে যা বাস্তব সমস্যার সমাধান হিসেবে কার্যকর হয়েছে; কিন্তু একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের লুটপাট ঠেকাতে কঠোর এবং লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া না হলে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর ফল সীমিত হবে। তিনি সরকারি ক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রশংসা করলেও জোর দিয়ে বলেন, এটি স্বল্পকালীন প্রচেষ্টা; দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক শৃঙ্খলা আনতেই কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

বক্তারা সবাই যে বিষয়টিতে একমত হয়েছিলেন তা হলো — কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। এ স্বাধীনতা না থাকলে আর্থিক নীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থেকে যাবে এবং দুর্নীতি ও কুমপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় মাথা তুলবে। অর্থনৈতিক সংগঠনগুলোর সুপারিশ ছিল—ব্যাংক তদারকি সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধি, অ্যান্টি-মনি লন্ডারিং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, এবং শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের লেনদেন খতিয়ে দেখার জন্য স্বতন্ত্র তদন্ত গঠন।

উপসংশ্লেষে, ড. ফরাসউদ্দীন তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন যে জড়িত কয়েকজনের ওপর কেন্দ্রীভূত অভিযানে তহবিল উদ্ধার করা সম্ভব এবং তা রাজকোষে ফিরিয়ে দিয়ে সামাজিক ও মৌলিক সেবায় ব্যয় করা যেতে পারে। তবে এমন ব্যবস্থার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি বারবার জোর দিয়েছেন—গণহারে অ্যাকাউন্ট জব্দ না করে নির্দিষ্ট প্রমাণভিত্তিক অভিযান চালানোই যেটি দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা করবে।

সেমিনারের শেষে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও নীতিনির্ধারকরা যদি তাড়াতাড়ি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর কাজ শুরু করেন, তাহলে দ্রুত অপব্যবহার রোধ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশ্বাস ফেরানো সম্ভব হবে। তারা বলছেন, এটি শুধুই অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নও বটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত