চ্যাম্পিয়নস লিগে তিনবার পিছিয়ে পড়েও বার্সার ড্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৪ বার

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে বার্সেলোনা তাদের ছন্দ হারালেও শেষ মুহূর্তে হার এড়াতে সমতায় মাঠ ছাড়লো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতের লড়াইয়ে বেলজিয়ান ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে তিনবার পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরায় হান্সি ফ্লিকের দল। ম্যাচটি শেষ হয় ৩-৩ গোলে।

ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা ও গতিময় ফুটবলের ছোঁয়া দেখা যায়। ষষ্ঠ মিনিটে ব্রুজের কার্লোস ফোর্বসের ক্রস থেকে নিকোলো ট্রেসোল্ডি প্রথম গোল করেন, যা বার্সেলোনার গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যান্সনি আটকাতে পারেননি। এক মিনিট পরই ফেররান তোরেস সমতা ফেরান, তবে ১৭তম মিনিটে আবারও ফোর্বসের গোলে ব্রুজ এগিয়ে যায়।

প্রথমার্ধে বার্সেলোনা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। ২৭তম মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে জুল কুন্দের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের ডি-বক্সে ঘন ভিড় থাকায় শট নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের নিখুঁত থ্রু বল থেকে দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি হলেও তোরেস লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও উত্তেজনা বাড়ে। ৫৯তম মিনিটে এরিক গার্সিয়ার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে ইয়ামাল দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দানি ওলমোর সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে ইয়ামাল ঠাণ্ডা মাথায় জালে বল পাঠান। ৬২তম মিনিটে ফোর্বস আবারও গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

৭৭তম মিনিটে বার্সেলোনা সৌভাগ্যের জোরে সমতা ফেরায়। ইয়ামালের ক্রসে খ্রিস্তোস জোলিসের মাথায় লেগে বলের দিক পরিবর্তন হয় এবং জালে পৌঁছে। শেষ দিকে বার্সেলোনা বল দখলে রেখে ম্যাচের বাকি সময় পার করায় দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে।

পরিসংখ্যান দেখালে বোঝা যায়, পুরো ম্যাচে ৭৮ শতাংশ সময় বল বার্সেলোনার নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারা মোট ২৩টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৬টি লক্ষ্যভেদী। ব্রুজের ১০টি শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যভেদী ছিল। রেফারি ভিএআর পর্যালোচনায় ব্রুজের একটি গোল এবং একটি পেনাল্টি বাতিল করেন।

চার ম্যাচের পর বার্সেলোনা দুটি জয় ও একটি ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে ১১তম স্থানে আছে। সমান ম্যাচে ব্রুজ ৪ পয়েন্ট নিয়ে ২৪তম স্থানে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, টানা চার জয়ে শীর্ষ তিনে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল ও ইন্টার মিলান।

ম্যাচের নাটকীয়তা, ইয়ামালের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং বার্সেলোনার ধৈর্য্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে। তিনবার পিছিয়ে পড়েও সমতা ফেরানো তাদের মানসিক শক্তি ও দলের প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিফলন। এই রোমাঞ্চকর লড়াই প্রমাণ করে, চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিটি ম্যাচে উভয় দলই লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম, যেখানে গোলের আনন্দ ও নাটকীয়তা এক সঙ্গে উপভোগ করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com