যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের ধাক্কায় ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে নতুন রেকর্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার
যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের ধাক্কায় ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বে নতুন রেকর্ড

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউনের সাক্ষী হলো যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম ৩৬ দিন ধরে বন্ধ থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আকাশপথে এর প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ জানিয়েছে, এই শাটডাউন পরিস্থিতি বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও পরিচালনায় সংকট সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি প্রধান বিমানবন্দর শুক্রবার থেকে ফ্লাইট ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন প্রায় ১৩ হাজার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং ৫০ হাজার নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যার ফলে বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে গেছে। ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের হার ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

এবারের শাটডাউন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দফার শাসনামলে ৩৫ দিনের জন্য সকল সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল। তবে চলমান শাটডাউন তার রেকর্ডও ছাপিয়ে গেছে এবং ৩৬তম দিনে পৌঁছেছে। এমন দীর্ঘ শাটডাউন দেশীয় অর্থনীতি, সরকারি কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইটের সংখ্যা ১০ শতাংশ কমানোর মাধ্যমে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ওপর চাপ কিছুটা কমানো হবে। এফএএ বলেছে, শাটডাউনের কারণে বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন, যা বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করছে।

যাত্রীদেরও শাটডাউনের প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে। বহু ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, বিলম্ব হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। বিমান পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ। ফ্লাইট বিলম্ব এবং বাতিলের কারণে বিমান কোম্পানিগুলোরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।

শাটডাউনের কারণে সরকারি কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ রাখলেও জরুরি সেবা এবং সীমিত কার্যক্রম কিছুটা চালু রয়েছে। তবে এফএএ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময়ের জন্য বেতন না পাওয়া কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়ছে, যার ফলে ফ্লাইট পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামলাতে বিমানবন্দরগুলোকে কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই শাটডাউন শুধু সরকারি কার্যক্রমকেই প্রভাবিত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা সেবা সহ বিভিন্ন খাতের ওপর শাটডাউনের প্রভাব পড়ছে। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তবে প্রশাসন এবং সরকার শাটডাউন সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শাটডাউনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বেসরকারি খাতেও প্রভাব পড়ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দীর্ঘ শাটডাউন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ভ্রমণ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতে।

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, যাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে এবং বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে ফ্লাইট কমানো প্রয়োজন ছিল। বিমানবন্দরগুলোকে অতি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে হবে, যাতে যাত্রী ও বিমান উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।

এদিকে সাধারণ যাত্রীরা বলছেন, ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে তাদের পরিকল্পনা ভেঙে গেছে। অনেকেই আন্তর্জাতিক সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান সংস্থা ইতিমধ্যেই যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা শুরু করেছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই শাটডাউন দেশের বিমান খাতের ওপর বড় ধাক্কা দিয়েছে।

মোটের উপর, ৩৬ দিনের দীর্ঘ শাটডাউন যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিহাসের এক অচলাবস্থার দিকে নিয়ে গেছে। ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্ব, নিরাপত্তা ঝুঁকি, বেতন ছাড়া কাজ করা সরকারি কর্মী এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে প্রভাব—এই সব মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শাটডাউনের প্রভাব দীর্ঘদিন দেশের অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনে থেকে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত