সন্ধ্যার ঝড়বৃষ্টি: ৬ জেলায় ৮০ কিমি বেগে তাণ্ডবের শঙ্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ৩ বার
সন্ধ্যার ঝড়বৃষ্টি: ৬ জেলায় ৮০ কিমি বেগে তাণ্ডবের শঙ্কা

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ঝড়-বৃষ্টির তীব্র আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে অন্তত ছয় জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাসে নদীবন্দর, নৌযান চালক, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চলমান গরমের মধ্যে আকস্মিক কালবৈশাখী ধরনের ঝড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত এবং দমকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মের শেষভাগ এবং বর্ষা মৌসুমের শুরুর এই সময়টিতে দেশের আবহাওয়ায় দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। দিনের তীব্র গরমের পর সন্ধ্যার দিকে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বজ্রমেঘের সৃষ্টি হয়। এর ফলেই আকস্মিক দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং কালবৈশাখী ধরনের ঝড় তৈরি হয়। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর প্রভাবে এমন পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী ছোট নৌযান, মাছ ধরার ট্রলার এবং লঞ্চগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বজ্রপাত দেশের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খোলা মাঠ, নদী কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থানরত মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই ঝড়ের সময় কৃষকদের মাঠের কাজ থেকে বিরত থাকা, নদীতে অবস্থানরত জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণও হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং গ্রামীণ এলাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতেও মঙ্গলবার বিকেল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। অনেক এলাকায় দমকা হাওয়া অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, সন্ধ্যার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, গাছপালা উপড়ে পড়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম, লিচু, ধান এবং সবজির মৌসুম চলছে। ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পাকা ধান ও গাছে থাকা ফল ঝড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা কৃষকদের আগাম সতর্ক থাকার এবং সম্ভব হলে দ্রুত ফসল সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন।

নদীবন্দর এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেক এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পরবর্তী সময়ে নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও ঝড়-বৃষ্টির সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, বৈদ্যুতিক সংযোগ স্পর্শ করা কিংবা খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের পর হঠাৎ ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি এখন অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে গরম, অন্যদিকে আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি জনজীবনে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব বৃষ্টিপাত দীর্ঘদিনের তাপপ্রবাহ কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে বর্ষা মৌসুমের আগমনী বার্তাও বহন করছে এই পরিবর্তিত আবহাওয়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত