তরুণদের হাতে দেশ গড়ার দায়িত্ব: জামায়াত আমির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার
জামায়াত আমির

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে— এমন মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী‑র আমির। শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়, একটি জেলা শহরে অনুষ্ঠিত ছাত্র‑ছাত্রী ও যুব প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করার সেই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে এবং তাে তরুণদের হাত ধরেই দেশ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি দাঁড়াবে।

এ বছর ৭ নভেম্বরের শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বা দেশের চীনা মৈত্রী কেন্দ্র হিসেবে পরিবেশিত এক সম্মেলন কেন্দ্রে, ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির আয়োজিত ডাকসু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা সভায় আমির এ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলছেন, যে তরুণরা গতকালের সংকটে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পর্বত­সমান হস্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, তারাই নতুন দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেবার মর্যাদা রাখে।

সভায় তিনি বলেন, দেশ থেকে স্বৈরাচার, বিশুদ্ধহীনতা ও অন্যায় শক্তির প্রভাব মুক্ত করতে হলে এক নতুন প্রজন্মের প্রত্যয় ও সাহস দরকার। এই তরুণরা যারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকবে, যাদের হাতে আছে সমাজ পরিবর্তনের ইচ্ছা ও নৈতিক শক্তি, তারা নিজেরাই আগামী দিনের দেশ গঠন করবেন। তিনি আরও বলেন, এক ধরনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গার মধ্য দিয়ে কাজ করলে দেশ শুধু পরিবতরিত হবে না— এটি হবে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়া একটি সমাজ।

আমিরের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট: “আমরা শুধু স্লোগান দিয়েই থামব না। যেসব তরুণ গত বছর স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনের পথে এগিয়ে এসেছে, তাদের শক্তিকে লক্ষ্যবস্তু না করে কাজে লাগাতে পারলে আমরা সত্যিকারের পরিবর্তন করতে পারব।” তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা শুধু ছাত্রনেতা নয়—আপনারা ভবিষ্যতের সমাজবিরোধী শক্তিকে চিহ্নিত করার সার্বজনীন দায়িত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান ছাড়াও ছাত্রশিবিরের জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়সংগঠন‑পরিষদের নেতৃবৃন্দ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি সংবর্ধনা দেওয়া হয়, যেখানে নতুন প্রজন্মের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা হয়। একজন নেতার বক্তব্য ছিল, “নতুন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই হবে সঙ্গে, আর শাসনব্যবস্থায় থাকবে কোনো ধরণের ব্যবসাসাই সীমাবদ্ধতা—তাই সংশোধনমূলক উদ্যোগে বাধা দেওয়া হলে তার পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।” আমির ওই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর এই মঞ্চ থেকে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, তা মাঝেমধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে অথবা বিরোধীদলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। তবে উল্লিখিত অনুষ্ঠানে আমির মূলত যুবশক্তি ও পরিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে আহ্বান জানিয়েছেন—স্বৈরাচার সঙ্কুচিত করার পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্বে দেশ‑সমাজকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, “আমরা দেশকে যেন উল্টো দিকে না খেয়ে এগিয়ে যেতে পারি—সেই লক্ষ্য নিয়ে আজ তরুণদের অংশগ্রহণ জোরদার করতে হবে।”

বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, এই ধরনের বক্তব‍্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর তরুণ উদ্দীপনা ও আগামী দিনের প্রজন্মকে সংগঠিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তাঁর ভাষায়, “আমরা দেশে কোনো ধরণের দুর্নীতি, উপনিবেশমূলক মনোভাব, সামাজিক অবিচার ও অপসংস্কৃতিকে গ্রহণ করব না। সেই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা জাগানো একান্ত জরুরি।” তিনি সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধি‑দলকে বলেছেন, “আপনাদের মাধ্যমে সমাজকে সচেতন ও সক্রিয় করতেই হবে—নিষ্ক্রিয়তা আর ভয় যেন আমাদের রাজনীতি না ব্যাহত করে।”

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

অনুষ্ঠানে ভালো আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রশ্নও উঠে—কীভাবে তরুণেরা নতুন ভূমিকায় নামবে? আমির তাঁর উত্তরেই বলেন, শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন হচ্ছে মূল্যবোধ ও সৃষ্টিশীল চিন্তা। তিনি বলেন, “আপনারা পড়াশোনা করবেন, শাসনবিধি সম্পর্কে জানবেন, তবে সবচেয়ে বড় হচ্ছে নিজেকে বদলানো—নিজেকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ুন। তারপরই দায়িত্ব হবে রাষ্ট্র‑সমাজের প্রতি।”

এদিনের সংবর্ধনার অনুষ্ঠানে একাধিক বক্তা “নতুন বাংলাদেশ”‑র ধারণা তুলে ধরেন। সেখানে তৎকালীন ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা, দেশের রাজনৈতিক মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ, সমাজে যুবজাত শক্তির উদ্ভব—সবই আলোচিত হয়। আমিরের বক্তব্য সেই ধারায় এগিয়ে যায়, যেখানে তিনি বলেন, “যে তরুণ এই পরিবর্তনের শপথ নেবে, যিনি স্বৈরাচারকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত, সেদিকেই থাকবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ।”

সাধারণ নাগরিক ও সমাজকর্মীদের জন্য এই বক্তব্য একটি উদ্দীপনা‑উৎস হয়ে দাঁড়াতে পারে—বিশেষ করে যারা তরুণ হিসেবে এখন প্রথমধাপে নেতৃত্বের দিকে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনের প্রসঙ্গে এই ধরনের আহ্বান নিয়মিতই দেওয়া হয়, তার কার্যকর বাস্তবায়নই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে দেশ‑রাজনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে, তবে সেটি নির্ভর করে কতটা তারা শিক্ষাগত, নৈতিক ও খোলামেলা পরিবেশে সংগঠিত হয়।

এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সর্বশেষ সংবর্ধনা বক্তব্য, তরুণদের প্রতি দেওয়া আহ্বান ও নতুন প্রজন্মের জন্য গড়ার প্রতিশ্রুতি—সব কিছুই পাঠকের বিবেচনায় এসেছে। আগামী দিনে তরুণরা কিভাবে সক্রিয় ভূমিকা নেবে, সেই প্রত্যাশা রেখে এই সংবাদ “একটি বাংলাদেশ অনলাইন” নিয়েছে পাঠকের সামনে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত