রোজার পণ্যে ৯০ দিনের বাকিতে আমদানি সুবিধা মিলছে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার
রোজার পণ্যে ৯০ দিনের বাকিতে আমদানি সুবিধা মিলছে

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাজারে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রোজার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ৯০ দিনের বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মোটর, মসলা ও খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এ সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশের সব ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার সময় নগদ মার্জিন জমার শর্তকে শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকরা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছে পণ্য ক্রয় করতে পারবে দীর্ঘ মেয়াদের অর্থপ্রদানের শর্তে, যা পূর্বে কঠোরভাবে নগদ জমা রাখার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ ছিল। এর ফলে বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং রমজান চলাকালীন সময়ে খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, এই সুবিধা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তার অর্থ, ওই তারিখ পর্যন্ত বিদেশি সরবরাহকারীর কাছে বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকবে। সার্কুলারে অন্যান্য সব নিয়মাবলী আগের মতোই বহাল থাকবে। গত ১১ নভেম্বরেও বাংলাদেশ ব্যাংক চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মোটর, মসলা ও খেজুর আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। ব্যাংকার ও গ্রাহকের সম্পর্ক বিবেচনায় নগদ মার্জিনের হার নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলসি স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

এলসি মার্জিন মূলত কোনো পণ্য আমদানির সময় আমদানিকারকের পক্ষ থেকে নগদ অর্থের ন্যূনতম জমা রাখার বিধান বোঝায়। সাধারণত আমদানি এলসি খোলার পর পণ্য দেশে আসে, এরপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে আমদানিকারক দায় পরিশোধ করে পণ্য খালাস করেন। আগে ৫ থেকে ১০ শতাংশ নগদ জমা রাখার বিধান ছিল। তবে ২০২২ সালে ডলার সংকটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ওষুধ ও কিছু অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ এলসি মার্জিন ধার্য করা হয়েছিল। বর্তমানে ডলার সংকট কাটিয়ে যাওয়ায় এসব শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, রমজান চলাকালীন সময়ে খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এই সময়ে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় খরচে পড়তে হয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কৃষক, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তার জন্য সমানভাবে উপকারি হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘ মেয়াদের বাকিতে আমদানি পদ্ধতি স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। এতে আমদানিকারকরা সহজে পণ্য আনতে পারবে এবং খুচরা বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্য সরবরাহের সময় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এর ফলে রমজান চলাকালীন সময়ে বাজারে পণ্যের ঘাটতি বা অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই পদক্ষেপে আমদানির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে। ব্যাংক এবং আমদানিকারকের মধ্যে সম্পর্ক বিবেচনা করে নগদ মার্জিন নির্ধারণ করার ফলে ব্যবসায়ীরা নিজের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আনতে সক্ষম হবেন। এছাড়া এলসি খোলার সময় অগ্রাধিকার দিয়ে বাজারে পণ্য দ্রুত পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।

এদিকে, ব্যবসায়ী মহল ইতিমধ্যেই বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ নগদ মার্জিনের শর্তে আমদানি সীমিত হয়ে থাকায় বাজারে সরবরাহে অসুবিধা দেখা দিচ্ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে আমদানি আরও সহজ হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন পদক্ষেপ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষও স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেতে পারবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ ধরনের সুবিধা রমজানের সময়ে অভাব কমাতে সহায়ক হবে।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনার মাধ্যমে রমজান চলাকালীন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। এলসি খোলার সময় নগদ মার্জিন শিথিল করে এবং ৯০ দিনের বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়ে ব্যাংক ব্যবসায়ীদের জন্য বাজারে সরবরাহের পথ আরও প্রশস্ত করেছে। এই পদক্ষেপ নীতি, অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের স্বার্থের সমন্বয়ে পরিচালিত হওয়ায় তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত