সর্বশেষ :
চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বিএনপির প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, স্বস্তিতে ক্রেতারা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মত বিশ্লেষকদের ১৭ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত অনুমোদন, জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্ব

এমবাপ্পের জোড়া গোলে ফ্রান্স বিশ্বকাপে নিশ্চিত

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
এমবাপ্পের জোড়া গোলে ফ্রান্স বিশ্বকাপে নিশ্চিত

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফ্রান্সের ফুটবল প্রেমীরা বৃহস্পতিবার একটি আনন্দদায়ক সন্ধ্যার সাক্ষী ছিলেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার জোড়া গোলে দুই বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০২৬ বিশ্বকাপে তার টিকিট নিশ্চিত করল। ঘরের মাঠে ইউক্রেনকে ৪–০ গোলে হারিয়ে ফ্রান্স তাদের শক্তিমত্তা পুনরায় প্রমাণ করল। ম্যাচে এমবাপ্পের সঙ্গে সঙ্গে দুই গোল করেন মাইকেল ওলিসে ও হুগো একিতি, যা পুরো ম্যাচের ফলাফলকে নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুদলেরই আক্রমণ ছিল নিয়ন্ত্রিত এবং কোনো গোল হয়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের আধিপত্য দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ৫৫তম মিনিটে এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে দলটি এগিয়ে যায়। এমবাপ্পের গোল শুধুমাত্র স্কোর বোর্ডে নয়, ফরাসি সমর্থকদের মনেও উৎসাহের ঢেউ তোলে। মাঠের প্রতিটি কোণে তাঁর গতিশীলতা ও কৌশল দলকে নতুন উদ্দীপনা যোগ করে।

৭৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে একটি চমৎকার শটে গোল করে ফ্রান্সের দ্বিতীয় লক্ষ্য স্থাপন করেন। বক্সে ঘুরে দাঁড়িয়ে সুক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ ও নিখুঁত শটে গোল করার মুহূর্তটি মাঠে উপস্থিত দর্শক এবং টেলিভিশনের সামনে থাকা দর্শকদের উভয়কেই মুগ্ধ করে। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের জয় নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলল।

এরপর ৮৩তম মিনিটে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোল এবং দলের তৃতীয় গোলও আসে। গোলের সময়ে এমবাপ্প প্রতিপক্ষের চাপের মুখে থাকলেও নিখুঁত দক্ষতায় বল জালিতে পাঠান। শেষের দিকে হুগো একিতিও তার নামের পাশে একটি গোল যোগ করেন, যা ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোর ৪–০ নিশ্চিত করে। এই জয়ে ফ্রান্সের ফুটবল প্রেমীরা উচ্ছ্বাসে ভাসেন।

দুই গোলের মাধ্যমে এমবাপ্পের জাতীয় দলের গোলসংখ্যা এখন ৫৫। তিনি অলিভিয়ের জিরুর থেকে মাত্র দুই গোল দূরে আছেন, যা তার ক্যারিয়ারের রেকর্ডকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। তার এই অর্জন শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, ফ্রান্স জাতীয় দলের জন্যও বড় মাইলফলক। দলের কোচ দিদিয়ের দেশঁ বলেন, “ফরাসি দল সব সময় এমবাপ্পের উপস্থিতিতে আরও ভালো খেলে। সে আমাদের কাজ সহজ করে দেয়। আজ সে দারুণ খেলেছে, খেলোয়াড় হিসেবে এবং দলের অধিনায়ক হিসেবেও।”

ম্যাচের সময় এমবাপ্প একবার হ্যাটট্রিকের খুব কাছে গিয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা নষ্ট হয়ে তিনি তা বক্সের বাইরে পাঠান। তবুও তার প্রদর্শন এবং দুই গোল পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের আধিপত্যকে দৃঢ় করেছে।

ফ্রান্সের এই জয়ে গ্রুপ ডি–তে তারা ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের জায়গা নিশ্চিত করেছে, যা ফরাসি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস এবং আশা জাগিয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন এবং আইসল্যান্ড ৭ পয়েন্টে সমান। তারা রোববার মুখোমুখি হবে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানের জন্য, যা ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ম্যাচের ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা ছিল চোখ ধাঁধানো। ফ্রান্সের প্রতিটি খেলোয়াড় একযোগে মাঠে তাদের কৌশল এবং শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। প্রতিপক্ষের চাপ এবং প্রতিরোধকে তারা দক্ষভাবে মোকাবিলা করেছে। এমবাপ্পের চলাফেরা, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং দলের মধ্যে যোগাযোগের দক্ষতা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। তার এই দক্ষতা শুধু ফ্রান্সকে জিততে সাহায্য করে নি, বরং তার ব্যক্তিগত সাফল্যের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ম্যাচের শেষে কোচ দিদিয়ের দেশঁ বলেন, “আমাদের দলের খেলোয়াড়রা প্রতিটি মুহূর্তে তাদের সেরাটা দিয়েছে। এমবাপ্প বিশেষভাবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সে আমাদের কৌশলগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করে এবং খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত রাখে।”

ফ্রান্সের সমর্থকরা ঘরের মাঠে এবং বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছ্বাসে আত্মহারা ছিলেন। ম্যাচ শেষে তাদের উদযাপন ছিল উৎসবমুখর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং টেলিভিশনে ভক্তরা এমবাপ্পের কৌশল, স্কিল এবং জয়ের মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বিশেষ করে এমবাপ্পের দুই গোলকে সমালোচকরা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন।

ফ্রান্সের এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের উত্তেজনা আরও বাড়ছে। দলটি নতুন আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় মনোভাব নিয়ে আগামি ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফ্রান্সের ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, বিশ্বকাপে দলটি আরও ভালো খেলে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কৌশলগত লড়াই চালাবে এবং চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত যাবে।

ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা একত্রে উদযাপন করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এমবাপ্পের অসাধারণ স্কিল এবং দলের একাগ্র প্রচেষ্টা ফুটবলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হয়েছে। তার নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং একাগ্রতা ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ ফুটবলকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।

ফ্রান্সের এই জয় শুধুমাত্র একটি ম্যাচের জয় নয়, এটি দল এবং দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আত্মবিশ্বাস এবং উচ্ছ্বাসের প্রতীক। এমবাপ্পের অসাধারণ পারফরম্যান্স ফ্রান্সের ফুটবলকে আরও শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের উত্থান এবং এমবাপ্পের অবদান দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে স্মৃতিমান থাকবে। তিনি কেবল গোল করেই নয়, মাঠে তার নেতৃত্ব এবং খেলোয়াড়দের মনোবল উজ্জীবিত করার মাধ্যমে ফ্রান্সের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত