কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী জিপ খাদে পড়ে ১১ জন আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
কেওক্রাডং যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী জিপ খাদে পড়ে ১১ জন আহত

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বান্দরবানের রুমা উপজেলায়, কেওক্রাডং পাহাড়ী রুটে ভোরবেলা এক পর্যটকবাহী জিপ (স্থানীয় ভাষায় ‘চাঁদের গাড়ি’) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়; এতে কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টার দিকে বগালেকের পেঁপেবাগান এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ওই সময় দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা অনুসারে, দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

ওসি (রুমা থানা) মো. সোহরাওয়ার্দী সাংবাদিকদের জানান, “পর্যটকরা গতকালই বান্দরবান এসেছিলেন এবং আজ ভোরে বগালেক থেকে কেওক্রাডং পাহাড়ের দিকেই যাত্রীবাহী গাড়ি করে যাচ্ছিলেন। পাহাড়ি রাস্তা বেশ সংকীর্ণ ও দ্রুতগামী, এবং কোনও সময়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে ঢলে যায়।” আহতদের প্রথমে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদেরকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পেঁপেবাগান এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ রুট হিসেবে পরিচিত। ওসি সোহরাওয়ার্দী বলেন, “চলতি বছরের মাঝামাঝি এক পর্যটন নীতিতে পরিবর্তন করে কেওক্রাডং চূড়ার প্রতি ভ্রমণ নিষিদ্ধ ছিল না; সেই পরিবর্তনের পর থেকেই ওই পথে চার থেকে পাঁচবার ইতিমধ্যেই নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।”

পর্যটন এবং পাহাড়ের সৌন্দর্যের জন্য কেওক্রাডং অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেখানকার ভিউপয়েন্ট দর্শনাতে আসে অসংখ্য পর্যটক। তবে এই ধরনের দুর্ঘটনা পর্যটন নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি সড়ক ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি ও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন পর্যটকরা এবং স্থানীয় প্রশাসন।

উদ্ধারকালে স্থানীয়রা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা একযোগে কাজ করেছেন। আহত পর্যটকদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কাজ চলেছে, তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সীমিত হওয়ার কারণে বড়সংখ্যক আহতকে সঠিক ও দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছানো একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পরিবহনের মান উন্নয়নের সত্ত্বেও সমস্যা রয়েছে তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাহাড়ি ভ্রমণের ক্ষেত্রে বড় ভ্রমণ সংস্থা ও প্রশাসনকে মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে: গাড়ির মান, চালকের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা দিকনির্দেশনা এবং রুটের অবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

স্থানীয় পর্যটক গাইডদেরও উদ্বেগ রয়েছে; তারা বলেন, “আমরা পর্যটকদের পাহাড়ে নিরাপদে নিয়ে যাই, কিন্তু সড়ক ও যানবাহন দিক থেকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি হওয়ায় আমাদের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।” দুর্ঘটনাগুলো পর্যটন খাতের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে পর্যটন প্রবাহকে প্রভাবিত করবে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রুমা উপজেলা প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়াতে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে। তারা সতর্কতা বৃদ্ধি, রুটে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন, ভ্রমণ অপারেটর ও গাইডদের মধ্যে সহমত গড়ে তুলতে হচ্ছে যাতে পর্যটনকে নিরাপদ ও টেকসই রাখা যায়।

এক পর্যটক বলেন, “কেওক্রাডং অতিপ্রাকৃতিক সৌন্দর্য অফার করে, কিন্তু এই ধরনের ঘটনা ভ্রমণকে বাড়তি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। আমরা আশা করি প্রশাসন এবং ভ্রমণ সংস্থাগুলো পারস্পরিক সহযোগিতায় সড়কের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

পরবর্তী পর্যায়ে উপজেলাভুক্ত কর্তৃপক্ষও পর্যটন ইকোনমি এবং ভয়ভীতি বন্ধ করার জন্য স্থানীয় ও জাতীয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করতে পারে। কারণ পর্যটনখাত যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণেই ক্ষতি হবে না, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বাধা পড়তে পারে।

এই দুর্ঘটনা আবারও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বপ্নের দৃশ্যের পেছনে রয়েছে দায়িত্ব। পরিবহন নিরাপত্তা, রুট ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা উন্নত না হলে পাহাড়ি পর্যটন কেবল ঝুঁকিপূর্ণই হবে — এবং এই ঝুঁকিতে ভ্রমণকারীর প্রাণও বিপন্ন হতে পারে।

এই ঘটনা আমাদের অবহেলিত ঝুঁকির কথা বলেছে — এবং এখন সময় এসেছে সিলসিলাবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার, যাতে কেওক্রাডং-এর সৌন্দর্য ‘ভ্রমণ স্বপ্ন’ হয়ে থাকুক, ট্র্যাজেডি নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত