২০২৬ সালে ৩ লাখ বাংলাদেশি পর্যটক আমন্ত্রণ মালয়েশিয়ার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

২০২৬ সালে ৩ লাখ বাংলাদেশি পর্যটক মালয়েশিয়া ভ্রমণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পর্যটনখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য শুধু পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধির হিসাব নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন এক অধ্যায়ের প্রতিফলন। মালয়েশিয়া তাদের আগামী পর্যটন বছর—‘ভিজিট মালয়েশিয়া ইয়ার ২০২৬’ উপলক্ষে এই লক্ষ্যকে মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরছে।

ঢাকায় ‘মালয়েশিয়া ট্যুরিজম ফেয়ার’ উপলক্ষে আয়োজিত গালা ডিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য মালয়েশিয়ার দরজা আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, পর্যটন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সামনে তিনি তুলে ধরেন দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে মানুষের ভ্রমণ অভ্যাস, বাজার সম্প্রসারণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সংযোগকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়, বরং জনগণের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সময়ের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা, শ্রমবাজার ও পর্যটন—এসব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের মানুষ মালয়েশিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন উন্নয়ন–স্বপ্নই দুই দেশের বন্ধুত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করে রেখেছে।

গালা ডিনারে বক্তৃতাকালে হাইকমিশনার জানান যে মালয়েশিয়া শুধু পর্যটনের জন্য নয়, বরং খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সমাজকে কাছাকাছি আনতে চায়। তিনি বলেন, “পর্যটন এমন একটি সেতু, যা দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষকে অভিজ্ঞতার জগতে নিয়ে যায়। তাই ২০২৬ সালকে আমরা এমনভাবে প্রস্তুত করছি, যাতে বাংলাদেশি পর্যটকরা মালয়েশিয়ার সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, আতিথেয়তা এবং বহুসংস্কৃতির মেলবন্ধন অনুভব করতে পারেন।”

অনুষ্ঠানে ‘ফেস্টিভ্যাল মালয়েশিয়া’র কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই ফেস্টিভ্যাল মালয়েশিয়ার সংস্কৃতির নান্দনিক রূপ, খাবারের ঐতিহ্য, সঙ্গীত, নৃত্য এবং বহুজাতিক সমন্বয়ের পরিচয় তুলে ধরবে। তার মতে, এ ধরনের উৎসব শুধু পর্যটক নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত আকর্ষণ ও সম্পর্কের উষ্ণতা তৈরি করে।

হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার কুয়ালালামপুর সফর—এই দুটি সফর দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বিশেষত শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা দুই দেশের জনগণের জন্য বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা সংযুক্ত বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। এর আধুনিক সুবিধা, বিশাল কানেক্টিভিটি এবং দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থান মালয়েশিয়াকে আঞ্চলিক ভ্রমণ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের শক্তিশালী হাবে পরিণত করেছে। এই অবস্থান বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য মালয়েশিয়াকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।

গালা ডিনারের আগে সকালে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মালয়েশিয়া ট্যুরিজম ফেয়ার’ এবং ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ইয়ার ২০২৬’ প্রচারণার উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধনী পর্বে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য ঘোষণা করেন, যা উপস্থিত কর্তৃপক্ষ এবং পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী, দ্রুত বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে সামনে রেখে মালয়েশিয়া এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক যত বাড়বে, ততই নতুন সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষত তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রবণতা দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে একটি নতুন পর্যটন ঢেউ তৈরি করছে।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক নগর জীবন, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, নিরাপদ ভ্রমণ পরিবেশ এবং খাবারের বৈচিত্র্য বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হিসেবে পরিচিত। এর পাশাপাশি, ভিসা নীতি ও ফ্লাইট কানেক্টিভিটির উন্নতি এই লক্ষ্য পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

মালয়েশিয়ার এই ঘোষণা কার্যত দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন বাজারেও নতুন এক গন্তব্যের উন্মেষ ঘটাবে। ইতোমধ্যে অসংখ্য বাংলাদেশি ভ্রমণকারী মালয়েশিয়াকে তাদের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। এবার মালয়েশিয়ার সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সেই ভ্রমণ প্রবণতাকে আরও বৈশ্বিক রূপ দেবে, এমনটা আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার এই সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ২০২৬ সালে ৩ লাখ বাংলাদেশি পর্যটককে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো—এ লক্ষ্যমাত্রা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এক দৃঢ় প্রতিশ্রুতি হয়ে রইল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত