বিজয়ের অঙ্গীকার হোক বিভাজন ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ বার
তারেক রহমান বিজয় দিবস

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি ঐক্য, মানবিকতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে দেশের প্রধান প্রয়োজন হলো নির্বিঘ্ন, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার পরিবেশ নিশ্চিত করা। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে মহান বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—সব ধরনের বিভাজন ও হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বাণীতে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি কামনা করেন—মহান বিজয়ের এই দিনে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবন সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক।

তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় জাতির ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। তিনি শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল নারী-পুরুষের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম জানান।

বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তাদের আত্মপরিচয় ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। তাই ১৬ ডিসেম্বর শুধু একটি দিন নয়, এটি জাতির গৌরব, অহংকার ও আত্মত্যাগের এক মহাকাব্যিক স্মারক।

তারেক রহমান বলেন, যে শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা বারবার ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের মাধ্যমে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশ রুদ্ধ করে মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অভিযোগ, টানা একের পর এক প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক মত দমনের জন্য গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার মতো ভয়াবহ দমন-পীড়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করা এক অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছিল, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।

তারেক রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক নিষ্ঠুরতম একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটে। এই আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এর ফলে আবারও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনই হতে পারে সেই গণতান্ত্রিক পথ, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বাণীর শেষাংশে তারেক রহমান মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন এবং দেশবাসীর প্রতি ঐক্য, সহনশীলতা ও মানবিকতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিজয়ের চেতনার মূল কথা হলো মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের জন্য এই বিজয়ের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক—আমরা বিভাজন ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত